Tuesday, September 29, 2026
বাড়ি রাজ্য পাহাড়ে পুলিশের কেন এত হজম শক্তি বাড়লো, রাজনৈতিক চাপে নাকি ভয়ে ? প্রশ্ন মহারানীর অবরোধ ঘিরে

পাহাড়ে পুলিশের কেন এত হজম শক্তি বাড়লো, রাজনৈতিক চাপে নাকি ভয়ে ? প্রশ্ন মহারানীর অবরোধ ঘিরে

পাহাড়ে পুলিশের কেন এত হজম শক্তি বাড়লো, রাজনৈতিক চাপে নাকি ভয়ে ? প্রশ্ন মহারানীর অবরোধ ঘিরে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৯ সেপ্টেম্বর :"ধমকাবেন না, থানা এক টুকরাও থাকবে না।" একজন ওসিকে এভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে কথা বলা কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অত্যন্ত বড় অপরাধ। সঙ্গে সঙ্গেই এমন কথা বলা আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা পুলিশের কর্তব্য হলেও চাকরি বাঁচাতে কাবু রাষ্ট্রপতি কালার্স প্রাপ্ত পুলিশ। পুলিশ মথার ভয়ে মেরুদন্ড যেন সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না। এমনটাই গুঞ্জন উঠেছে মহারানীর ঘটনা ঘিরে।

গত কয়েক মাস আগে উদয়পুরে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলার সময় বর্তমান এসডিপিও -র বলেছিলেন এটা দিল্লি নয় রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করতে পারবেন আপনারা। সেদিন আন্দোলনের পেছনে মূল কারণ ছিল রাস্তা খারাপের কারণে এক মায়ের গর্ভেই সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল। তাই তারা আন্দোলনে নেমেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছিল এসডিপিও। বর্তমানে এই এসডিপিও মহারানী এলাকার মথার নেত্রী ধমাকানো কান পেতে শুনলেন। জানা যায়, সোমবার ভোটের দিন যে গুলি কাণ্ডের ঘটনা মহারানীতে ঘটেছে তার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে উদয়পুর- অমরপুর সড়ক অবরোধ করে তিপরা মথা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল রাধা কিশোরপুর থানার পুলিশ, মহারানী ফাঁড়ির পুলিশ। আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দেওয়া হল মথার এক নেত্রী পুলিশকে যেভাবে চোখ রাঙিয়ে ধমকিয়ে থানা নিয়ে কথা বললেন সেটা অত্যন্ত অপরাধ।

কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সুষ্ঠু পরিবেশে এ ধরনের আচরণ বরদাস্ত করা সঠিক নয়। তাহলে আগামী দিন যে সে কেউ রাস্তায় নেমে এভাবে পুলিশকে ধমকাবে এবং জনগণের পয়সায় গড়ে উঠা সরকারি সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেবে। তাই সাবাসি না দিয়ে অবিলম্বে এ ধরনের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন পুলিশের। একইসঙ্গে অভিযোগ উঠেছে যেখানে বিজেপি-র সঙ্গে জোট হয়ে লড়াই করছে নির্বাচনে তিপরা মথা, সে জায়গায় কিভাবে বিজেপি থু, থু স্লোগান দেয় মথার কর্মী সমর্থক? আসলে কার সঙ্গে ঘর করছে বিজেপি? যারা উপর মহলে ভাই ভাই, বন্ধু বন্ধু- তারা ময়দানে শত্রুর ভূমিকা পালন করছে? এটাই মানুষের মধ্যে গুঞ্জন। সবার একটাই প্রশ্ন যদি বিজেপি আশ্রিত দুর্বৃত্তরা মথার প্রার্থীকে গুলি করে থাকে তাহলে এই এনডিএ জোট কি লোক দেখানো? প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ কোথায়? জোট ঘোষণার পর কোন নির্বাচনী প্রচারে কিংবা এই গুলি কান্ডের ঘটনার পর সামনে আসেননি? যাইহোক মহারানীর ঘটনা ক্রমশ রাজ্য রাজনীতিকে চোখ রাঙাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপরও। সামাজিক মাধ্যমে মানুষের বক্তব্য, যে পুলিশ গত দুদিন আগে চাকুরী জন্য আন্দোলনকারীদের ঘার ধাক্কা দিয়ে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, সেই পুলিশ কিভাবে নিজেরা আক্রমণ হওয়ার পরেও এমন ধমকানো চমকানো সহ্য করছে? সুশাসন জামানা তো পুলিশকে "ফ্রি হ্যান্ড" দিয়ে রেখেছে, তাহলে কেন পুলিশ সঠিক ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এমন হলে রাজ্যের পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাই স্বাভাবিক সাধারণ মানুষের।

 

 

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha