স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ১৯ অগস্ট : ভোট কারচুপির প্রতিবাদে ইন্ডিয়া জোটের ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’য় দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার সকালে সঙ্কীর্ণ রাস্তায় ভিড়ের মধ্যে রাহুল গান্ধীর গাড়ির চাকায় আহত হলেন এক পুলিশকর্মী। নওয়াদায় ওই পুলিশকর্মীর পায়ের উপর দিয়ে চলে যায় গাড়ির চাকা। আহত পুলিশের দিকে জল এগিয়ে দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। যদিও এই ঘটনার পরেই আসরে নামে বিজেপি। তাদের কটাক্ষ, ‘চূর্ণ জনতা যাত্রা’ কংগ্রেস নেতার।
পুলিশকর্মীর সঙ্গীরাই খেয়াল করেন তাঁর পায়ের পাতার উপর চাকা উঠেছে। তাঁরাই বিষয়টি রাহুলের জিপের চালককে জানান। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি পিছন দিকে সরান হয়। রাহুল গান্ধী নিজে একটি জলের বোতল এগিয়ে দেন পুলিশকর্মীর দিকে। পরে রাহুল গাড়ি থেকে নেমে দেখা করেন আহত ব্যক্তির সঙ্গে। বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি বলেই জানা গিয়েছে। যদিও শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনীতি। দুর্ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেসকে নিশানা করেছে বিজেপি। দলের সোশাল মিডিয়া লেখা হয় ভোটার অধিকার যাত্রা আসলে ‘চূর্ণ জনতা যাত্রা’। “রাহুল গান্ধীর গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন পুলিশকর্মী। রাজার ছেলে গাড়ি থেকে নামেওনি।”
বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনে বাদ পড়ছে ৬৫ লক্ষ ভোটার। ‘ভোটচুরি’র অভিযোগে নীতীশ কুমারের রাজ্যের সাসারাম থেকে রবিবার দীর্ঘ ১৩০০ কিলোমিটার ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ শুরু করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বিরোধী শিবির ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচির প্রথম দিন অংশ নেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব। ছিলেন লালুপুত্র তেজস্বী যাদবও। পদযাত্রা শুরুর আগে রাহুল হুঙ্কার দেন, ‘বিহারে ভোট চুরি করতে দেব না’।
১৬ দিন ব্যাপী ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ শেষ হবে ১ সেপ্টেম্বর পাটনায়। ১৩০০ কিলোমিটার পথে বিহারের মানুষের কাছে এসআইআর নিয়ে বার্তা দেওয়াই উদ্দেশ্য এই কর্মসূচির। কার্যত এই পদযাত্রায় এক ঢিলে দুই পাখি মারার কৌশল নিয়েছে বিরোধী শিবির। একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের নিবিড় সংশোধন নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে, আবার এই কর্মসূচির সূত্রেই বিহারের মানুষের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ থাকছে। ১৬ দিনের এই সফরে গয়া, মুঙ্গের, ভাগলপুর, কাটিহার, পূর্ণিয়া, মধুবনী, দ্বারভাঙা, পশ্চিম চম্পারণ-সহ ২০টির বেশি জেলা ঘুরবেন রাহুল। সঙ্গে থাকছেন লালু-পুত্র তেজস্বী যাদবও। কর্মসূচি চলাকালীন ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন কংগ্রেস সাংসদ। রাহুল জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়, এটি গণতন্ত্র এবং সংবিধান রক্ষার আন্দোলন।

