স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৭ আগস্ট : লরি চালক মিহিরের মৃত্যু আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল প্রশাসনের একাধিক গাফিলটিকে। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা ধরে বাচার জন্য মিহিরের করুন আর্তনাদ ঘুম ভাঙ্গাতে পারল না প্রশাসনের। যার কারনে একটু একটু করে শতশত মানুষের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল মিহির। এই লজ্জা কার। মিহিরের মৃত্যুর দায় কার। জানতে চায় একমাত্র পুত্র হারা মা-বাবা সহ রাজ্যবাসী। রাজ্যবাসী জানতে চায় যেখানে প্রশাসন একজন যান শ্রমিকের প্রাণ বাঁচাতে ব্যর্থ হল, সেখানে প্রতি বছর দুর্যোগ মোকাবেলার প্রশিক্ষণ আর সচেতনতার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে কি হবে। মিহিরের এই মৃত্যুকে হাল্কা ভাবে নিতে না রাজ খোদ মুখ্যমন্ত্রী।
তাই কাল বিলম্ব না করে মিহিরের মৃত্যুর জন্য গাফিলতি কার তার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হল। চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হল তেলিয়ামুড়ার মহকুমা শাসককে। কারন দর্শানোর নোটিস দেওয়া হল খোয়াই জেলার জেলা শাসককে। একই সাথে মুখ্যমন্ত্রী মিহিরের বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী সান্তনা চাকমা ও মন্ত্রী টিঙ্কু রায়কে। একই সাথে মিহিরের পরিবারকে ৬ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রী টিঙ্কু রায় ও মন্ত্রী সান্তনা চাকমা ছুটে যান কাঞ্চনপুর দশদা বড়হলদি এলাকায় মৃত যান শ্রমিক মিহির লাল দেবনাথের বাড়িতে। দুই মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন একমাত্র পুত্র হারা মা-বাবা। কারন তাদের দেখার মতো যে আর কেউ নেই। মন্ত্রী সান্তনা চাকমা ও মন্ত্রী টিঙ্কু রায় মৃত মিহিরের মা-বাবাকে সমবেদনা জানান।
এইদিন মুখ্যমন্ত্রী ত্রান তহবিল থেকে মৃত মিহিরের মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয় দুই লক্ষ টাকার চেক। মন্ত্রী টিঙ্কু রায় সেই চেক তুলে দেন। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবেলা তহবিল থেকে ইতিমধ্যে মৃত মিহিরের মা-বাবার একাউন্টে চার লক্ষ টাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী টিঙ্কু রায় জানান স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় থাকলে হয়তো মিহিরের প্রাণ বাঁচানো যেতো। তাই মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মৃত মিহিরের মা-বাবার কি সমস্যা রয়েছে সেই গুলি দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি এবং মন্ত্রী সান্তনা চাকমা মৃত মিহিরের বাড়িতে এসেছেন। মৃত মিহিরের মা-বাবার সাথে কথা বলেছেন। তাদেরকে ইতিমধ্যে ২ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। এবং চার লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক একাউন্টে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এইদিন মন্ত্রী টিঙ্কু রায় ও মন্ত্রী সান্তনা চাকমা মৃত মিহিরের মা-বাবাকে সকল ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। এইদিন দুই মন্ত্রীর সাথে ছিলেন উত্তর জেলার জেলা শাসক চাঁদনী চন্দ্রান, কাঞ্চন পুর মহকুমার মহকুমা শাসক ডক্টর দীপক কুমার সহ অন্যান্যরা।

