Sunday, February 8, 2026
বাড়িখেলা৫০০ ছোঁয়ার আগে কোহলির পরিশ্রম ও ত্যাগের গল্প শোনালেন দ্রাবিড়

৫০০ ছোঁয়ার আগে কোহলির পরিশ্রম ও ত্যাগের গল্প শোনালেন দ্রাবিড়

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক,২০ জুলাই: ২০০৮ সালের অগাস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ডাম্বুলায় যে পথচলা শুরু হয়েছিল, তা এবার পৌঁছে যাচ্ছে গৌরবময় এক ঠিকানায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পোর্ট অব স্পেন টেস্ট দিয়ে কোহলি পূর্ণ করতে যাচ্ছেন ৫০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। কোহলির আগে এই অর্জনে নিজেকে রাঙাতে পেরেছেন ক্রিকেট ইতিহাসের আর মাত্র ৯ জন। তাদের মধ্যে একজন দ্রাবিড়ও। তাই তিনি ভালো করেই জানেন, কতটা সাধনায় এতটা পথ পাড়ি দিতে হয়। কোহলির ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলিও কাছ থেকে দেখেছেন দ্রাবিড়। ২০০৮ আইপিএলে একসঙ্গে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোর দলে খেলেছেন তারা। পরে একসঙ্গে খেলেছেন ভারতের ওয়ানডে দলে। 

২০১১ সালে যখন ভারতের টেস্ট দলে কোহলির অভিষেক, তখনও দ্রাবিড় টেস্ট দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২০১২ সালে কোহলি যখন পেলেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ, অ্যাডিলেইডে সেই টেস্ট দিয়েই দ্রাবিড়ের ক্যারিয়ারের ইতি। এখন কোচ হিসেবে আবার তিনি কাছ থেকে দেখছেন কোহলিকে। কোহলির ৫০০তম ম্যাচের আগে দ্রাবিড় ফিরে তাকালেন পেছনে। ভারতের কোচ বললেন দুজনের এখনকার সম্পর্কের রসায়ন নিয়েও। “বিরাটের এই পথচলা দেখতে পারাটা দারুণ। যখন আমি খেলেছি, তখন সে তরুণ একজন হিসেবে শুরু করেছে। এরপর যখন দলে ততটা সম্পৃক্ত ছিলাম না, তবে দূর থেকে সমীহ নিয়েই ওকে দেখেছি, সে যা করেছে এবং অর্জন করেছে, সবকিছুর জন্য।” 

 “এখন গত দেড় বছর ধরে তাকে কিছুটা জানতে পারছি (কোচ হিসেবে), তার সঙ্গে কাজ করছি, ব্যক্তিগতভাবেও তাকে দেখছি, সবকিছুই দারুণ। সত্যিই দারুণ উপভোগ করছি। তার কাছ থেকে শিখছিও অনেক। অনেক দিক থেকেই তাই খুব উপভোগ করছি এবং আশা করছি, সেও উপভোগ করছে।” প্রায় ১৫ বছরের এই ক্যারিয়ারে অনেক রেকর্ডের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন কোহলি। অভাবনীয় অনেক কীর্তি গড়েছেন। যেখানে তার শ্রেষ্ঠত্ব, যেখানে তার বিশালত্ব ও যেখানে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে, সবকিছুর স্বাক্ষ্য দেবে পরিসংখ্যান। তবে ২২ গজে ওই সংখ্যাগুলোকে ধরার জন্য কোহলির আড়ালের যে প্রস্তুতি, দ্রাবিড়ের চোখে সেসবই বিশেষ কিছু।“কোনো সন্দেহ নেই, এই দলের অনেকের জন্য এবং ভারতের অনেক অনেক ছেলে-মেয়ের জন্য সে বড় অনুপ্রেরণা। তার পরিসংখ্যানই তার হয়ে কথা বলে, তার পারফরম্যান্সগুলো, সবকিছুই লিপিবদ্ধ আছে। তবে আমার জন্য যা সরাসরি দেখতে পাওয়া সবচেয়ে দারুণ, তা হলো পর্দার আড়ালে তার যে কাজ ও প্রচেষ্টা, যা কেউ দেখছে না। সেটিই প্রতিফলিত হচ্ছে তার ৫০০ ম্যাচ খেলার অর্জনে।” 

কোহলির পরিশ্রম, নিবেদন ও ত্যাগের অনেক গল্পই বছরের পর বছর ধরে চর্চিত হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে ও ক্রিকেট বিশ্বে। দ্রাবিড়ও সেসব মনে করিয়ে দিলেন আরেকবার। “এত বছর ধরে খেলে, ৫০০ ম্যাচ খেলেও সে এখনও অনেক শক্তিশালী, খুবই ফিট, তার যে প্রাণশক্তি ও উদ্যম, তা সত্যিই দারুণ। এসব সহজে আসে না। ক্যারিয়ারজুড়ে আড়ালের অনেক পরিশ্রম, অনেক অনেক ত্যাগ সে করেছে এবং এখনও করে চলেছে বলেই এসব এসেছে। কোচ হিসেবেও এটা দেখাটা দারুণ। কারণ তরুণ ক্রিকেটাররা তাকে কাছ থেকে দেখছে এবং অনুপ্রাণিত হচ্ছে।” দ্রাবিড়ের মতো, কোহলির নিত্য দিনের নিয়মিত কাজই অনেক তরুণের জন্য প্রেরণার উৎস। ৩৪ বছর বয়সী কোহলিকে আরও অনেক দিন এই রূপেই দেখতে চান কোচ। “কিছু বলার প্রয়োজন নেই এখানে। যেভাবে সে নিজেকে পরিচালনা করে, নিজেকে যেভাবে মেলে ধরে, অনুশীলনে ও ফিটনেসে যেভাবে নিজেকে উপস্থাপন করে, তরুণ অনেকের জন্য এসবই প্রেরণাদায়ক। আশা করি, তারাও তা অনুসরণ করবে এবং বিরাটের মতো এত এত ম্যাচ খেলতে অনুপ্রাণিত হবে। দীর্ঘস্থায়িত্ব আসে কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, উপযোগীতা থেকে এবং সে এসবের সবকিছুই দেখিয়েছে। আশা করি, আরও অনেক দিন তা চলতে থাকবে।”

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য