বাড়িরাজ্যসুদীপ ও শান্তনু হত্যাকাণ্ড মানিক সরকারের পতনের কারণ, বললেন স্যন্দন সম্পাদক

সুদীপ ও শান্তনু হত্যাকাণ্ড মানিক সরকারের পতনের কারণ, বললেন স্যন্দন সম্পাদক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ জুলাই : শনিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এক রক্তদান শিবির এবং পশ্চিম জেলা কমিটির বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, স্যন্দন পত্রিকা ও স্যন্দন টিভির সম্পাদক তথা রাজ্যের বরিষ্ঠ সাংবাদিক সুবল কুমার দে সহ-সংগঠনের নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা বক্তব্য রেখে বলেন, রাজ্যের সংবাদ মাধ্যম সরকারের অঙ্গ। সরকারের সঙ্গে সংবাদ মাধ্যম মানসিকভাবে এবং সামাজিকভাবে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

সংবাদ মাধ্যমের দ্বারাই সরকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। কোন একটি খবর প্রকাশ হলে সেটা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপারকে অবগত করা হয়। প্রশাসনিক আধিকারিকরা যেন খবরের সততা যাচাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাই সংবাদ মাধ্যম সরকারকে কাজ করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে বলে অভিমত ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হল সংবাদ মাধ্যম। পূর্বতন সরকারের সময় রাজ্যের গণতন্ত্রের অবস্থা কিরকম ছিল সেটা সকলেই অবগত রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের সাংবাদিকদের অবস্থা সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। কিন্তু রাজ্যের সংবাদ কর্মীদের কোন সমস্যা থাকলে সেই সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায় সেটা নিয়ে বর্তমান সরকার চিন্তা করে। এবং সাধ্যের মধ্যে থেকে সমাধান করার চেষ্টা করে।

সুতরাং, রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমে পাশে আছে সরকার। তাই নিশ্চিন্তে থাকতে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন সাংবাদিকদের মধ্যে একাধিক সংগঠন থাকতেই পারে। কিন্তু সব সংগঠনের সিদ্ধান্ত যেন এক হয়। তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। স্যন্দন পত্রিকা ও স্যন্দন টিভি সম্পাদক তথা রাজ্যের বরিষ্ঠ সাংবাদিক সুবল কুমার দে বলেন,

সংবাদপত্রের উপর মানুষ বিশ্বাস রাখে। সংবাদপত্রকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হয়। তাই সরকারের চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তনের প্রয়োজন। কারণ রাজ্যের সংবাদ মাধ্যম বর্তমানে একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অবিলম্বে সরকার সমস্যার সমাধান না করলে এই পরিস্থিতিতেই বাঁচতে হবে রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমকে। করোনা অতিমারির পর বিজ্ঞাপন নীতির সমস্যার কারণে দেশে ৩০০০ পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। একাধিক বড় বড় পত্রিকার খবর প্রকাশিত পৃষ্ঠার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এ রাজ্যেও না খেয়ে মারা গেছেন খুব সৎ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক সুদীপ ও শান্তনু হত্যাকান্ডের ঘটনা মানিক সরকারের পতনের কারণ। একই সঙ্গে তাদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি করলেন রাজ্যের বরিষ্ঠ সাংবাদিক সুবল কুমার দে। আয়োজিত এই দিনের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উপস্থিতি হল বেশ লক্ষণীয়। পরবর্তী সময় উপস্থিত অতিথিরা রক্তদান শিবির ঘুরে দেখেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য