শিলং, ২০ মে (হি.স.) : মেঘালয়ে ১৩টি দেশের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক মহড়া। রাজ্যের উমরই সেনা ছাউনিতে আজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছে দু-সপ্তাহব্যাপী বহুজাতিক সামরিক মহড়া। মহড়ায় ১৩টি দেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেছেন। জঙ্গল ও অর্ধ-পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
‘প্রগতি ২০২৬’ (পার্টনারশিপ অব রিজিওনাল আর্মিজ ফর গ্রোথ অ্যান্ড ট্র্যান্সফর্মেশন ইন দ্য ইন্ডিয়ান ওশান রিজিওন, সংক্ষেপে পিআরএজিএটিআইওআর) শীর্ষক এই মহড়ায় ভারত সহ আরও ১২টি অংশীদার দেশ অংশ নিচ্ছে। দেশগুলি যথাক্রমে ভুটান, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মায়ানমার, নেপাল, ফিলিপাইনস, সেশেলস, শ্রীলঙ্কা এবং ভিয়েতনাম।
প্রতিরক্ষা জনসংযোগ আধিকারিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহেন্দ্র রাওয়াত জানিয়েছেন, যৌথ কৌশলগত মহড়ায় পরিকল্পনা অনুশীলন এবং দুর্গম এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সিমুলেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী সেনাবাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা মূল লক্ষ্য।
মহড়ার প্রশিক্ষণ পর্বে সহনশীলতা, অভিযোজন ক্ষমতা, শৃঙ্খলা এবং কঠিন পরিবেশে অপারেশনাল সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানান মহেন্দ্র রাওয়াত। তিনি জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সেনারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় অভিন্ন কৌশল গড়ে তুলতে সহায়তা হবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় তৈরি দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিও এই মহড়ায় প্রদর্শন করবে। বিদেশি সেনা প্রতিনিধিদল এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা নির্মাতাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরাই এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য।
সামরিক আধিকারিক জানান, এই মহড়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও মজবুত হবে, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে উঠবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পেশাগত মিথস্ক্রিয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে সেনাবাহিনীগুলির মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হয়। তিনি জানান, পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সামরিক আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ইনফ্যান্ট্রি) মেজর জেনারেল সুনীল শেওরান অংশগ্রহণকারী সেনাদলগুলিকে স্বাগত জানিয়ে পরিবর্তিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

