স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২ এপ্রিল :আসন্ন এডিসি নির্বাচন এবং ৫৬ নং আসনের ধর্মনগরের উপ নির্বাচন প্রহসনে পরিণত করার চেষ্টা করছে শাসক দল বিজেপি। বৃহস্পতিবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ২০১৮ -র পর যতগুলি নির্বাচন রাজ্যে হয়েছে সবগুলি নির্বাচন অবৈধ ভাবে সরকারি প্রশাসন ব্যবহার করেছে বিজেপি।
পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপব্যাবহার করেছে, নির্বাচনী বিধির অবমাননা করেছে ও নিবার্চন পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্ত আধিকারিকদের শাসক দলের রাজনৈতিক স্বার্থের নেক্কার জনক ভাবে ব্যবহার করতে নানা নজির ধরা পড়ছে। আসন্ন ধর্মনগর উপনির্বাচন এবং এডিসি নির্বাচন একইভাবে প্রহসনে পরিণত করতে চাইছে বিজেপি। এসবের বিভিন্ন তথ্য সমৃদ্ধ অভিযোগ জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে জানানো সত্ত্বেও কোনো প্রতিকার বা বাস্তব সম্মত জবাবও মিলছে না। এডিসি নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার, প্রচার কার্য শুরু হয়ে যাওয়ার পর বুধবার নিয়ম রক্ষার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সর্ব দলীয় সভা ডাকে। যদিও রাজ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিভিপ্যাট সহ ই ভি এম ভোটিং মেশিন থাকা সত্ত্বেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে মধ্য প্রদেশ থেকে পুরোনো এম-২ ভিভিপ্যাট বিহীন পুরোনো ভোটিং মেশিন এডিসি বুথ সংখ্যার তিন গুনের বেশি আমদানি করা হয়েছে।
ইভিএম মেশিনে নানা কারচুপি বিষয় দুনিয়া জুড়ে স্বীকৃত। এতে খানিকটা স্বচ্ছতা আনার প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভিভি পেড চালু করা হয়েছিল যা এই এডিসি নির্বাচনে উপেক্ষা করা হচ্ছে। এই নির্বাচন প্রচার চলা কালীন সময়এ রাজ্য বিজেপি এর জৈনিক মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে ইভিএম এ যেখানেই বোতামে চাপ দিক না কেন তা পদ্ম চিহ্নেই চলে আসবে। তিনি আরো বলেন, পশ্চিম জেলা শাসকের কার্যালয়ে রাজ্য নির্বাচনের উপস্থিতিতে যে সর্ব দলীয় সভা হয় সেই সভায় প্রদেশ কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের এই জাতীয় উদ্যোগ সহ নির্বাচনী এলাকায় তৈরি উত্তেজক পরিস্থিতিতে স্বাধীন ভাবে নির্বাচনী প্রচার না করতে পারা সহ নানা অনিয়ম বিধি ভঙ্গের বিষয় সমূহ তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তাব রাখেন ভিভিপ্যাট সহ ইভিএম মেশিনেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে অন্যথায় ব্যালট পেপারে নির্বাচন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণের সাথে সাথে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরার ব্যবহার প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার বিধান ইত্যাদির দাবি জানায়।
এতে বিজেপির বাইরে উপস্থিত সবকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাই সহ মত পোষণ করেন। প্রদেশ কংগ্রেসের প্রতিনিধি এই বিষয় গুলি সম্পর্কে আরো জোরালো তথ্য তুলে ধরতে চাইলে উপস্থিত শাসক বিজেপি প্রতিনিধিরা বাধা সৃষ্টি করে হৈহট্টগোল শুরু করে দেয় এই সুযোগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সভা সমাপ্ত বা কোনো রকম সিদ্ধান্ত না করে সভা ছেড়ে চলে যায়। এতে বিজেপি সরকার এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আতাতই প্রমাণিত হয়। এছাড়া শাসক জোটের পরিকল্পনা মাফিকই এডিসি এলাকার স্বাধীন ভোটের পরিবেশ বিনষ্ট করতে পরিকল্পনা মাফিক গত কয়েক মাস যাবতই শাসক জোটের দল গুলি উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একের বিরুদ্ধে অপরের কুৎসা রচনা দুর্নীতি নিয়ে কামান দাগা, নানা পর্যায়ে ছোট বড় সংঘর্ষ। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব প্রশান্ত সেন চৌধুরী।

