Thursday, March 12, 2026
বাড়িরাজ্যসরকারি হোমে নির্যাতনের শিকার নাবালক, বর্তমানে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

সরকারি হোমে নির্যাতনের শিকার নাবালক, বর্তমানে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ নভেম্বর : সরকারি হোমে নির্যাতনের শিকার নাবালক।‌ গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর পরিবারকে দিয়ে জিবি হাসপাতালে পাঠাল হোম কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, চুরির অপবাদে আটক হওয়া ১৪ বছরের নাবালকের উপর ধর্মনগর সরকারি হোমে চললো অমানবিক নির্যাতন। বর্তমানে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই নাবালক। তার বাড়ি ধর্মনগর সাকাইবাড়ি এলাকায়। গত পাঁচ মাস আগে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠেছিল। তারপর তাকে আটক করে পুলিশ হোমে পাঠায়। তারপর গত পাঁচ মাস তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যায় হোমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা।

নাবালক জিবি হাসপাতালে শয্যাশায়ী অবস্থায় জানায়, তাকে হোমে নেওয়ার পর বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন চালায় কর্তৃপক্ষ। সে একদিন খেলা করার সময় হোমে সরঞ্জাম নষ্ট করে ফেলেছিল, তাই বলে তাকে ২০০ বার উঠবস করার জন্য বলে কাউন্সিলর পুষ্পিতা চক্রবর্তী বলে অভিযোগ। উঠবস করার সময় ১৬০ বার উঠবস করে শ্বাসকষ্ট হওয়ায় গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। তারপর সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলার পর নিয়ে যাওয়া হয় ধর্মনগর হাসপাতালে। এদিকে অন্য একদিন হোমের কর্মী দীপ ভট্টাচার্য তার আঙ্গুলের মধ্যে কলম চাপা দিয়ে ধরে রাখে।

এর ফলে তার আঙ্গুলে পচন্ড আঘাত লাগায় কয়েক দিন খাওয়া-দাওয়া করতে পারে নি। এভাবে নির্যাতনের কিছুদিন পর হঠাৎ একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। ঘুম থেকে উঠে দেখে সে দাঁড়াতে পারছে না। তখন হাসি ঠাট্টা করে হাসি ঠাট্টা করে হোম কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকদিন কাটিয়ে দেয়। পরবর্তী সময় হোমের চিকিৎসক ডাঃ প্রমিত দেব রায় তাকে ভয় দেখিয়ে বলে যদি আদালতে জামিনের দিন সে সুস্থ হয়ে যায় তাহলে তাকে স্কুটি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে আঁতুর করে দেবে বলে অভিযোগ করে‌ নাবালক। আর অভিযোগ সুপারিনটেনডেন্ট অন্যান্য কর্মীদের বলেন তার পায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করার জন্য। তাহলে সে হাঁটাহাঁটি করবে। পরবর্তী সময়ে তার অসুস্থতা যখন আরো গুরুত্ব রুপ ধারণ করে তখন বাইরের এক চিকিৎসককে দেখানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জিবি হাসপাতালে রেফার করেন। গত ছয় নভেম্বর থেকে শেষ জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কর্তব্য রাতে চিকিৎসক জানিয়েছেন তার ডুচেন মাসকুলার ডিস্ট্রোফি হয়েছে। যা এক ধরণের গুরুতর পেশী রোগ। এটি একটি বংশগত রোগ, যা সাধারণত ছেলেদের মধ্যে দেখা যায় এবং পেশীর দুর্বলতা সৃষ্টি করে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পেশী দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নড়াচড়া, শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতার উপর প্রভাব ফেলে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দাবি করলে নাবালকের পিতা। উল্লেখ্য, গত ছয় দিন ধরে নাবালক জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরেও কুম্ভ-নিদ্রায় মগ্ন শিশু সুরক্ষা কমিশন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য