স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৪ অক্টোবর :ক্যান্সার রোগ নিরাময়ের জন্য পরিষেবার নতুন দিগন্ত খুলে দিল ইন্টারন্যাশনাল এনকোলজি ক্যান্সার ইনস্টিটিউট। আগরতলা আইএলএস হাসপাতালে সাথে চুক্তিবদ্ধভাবে ইন্টারন্যাশনাল এনকোলজি ক্যান্সার ইনস্টিটিউট এই পরিষেবা শুরু করেছে ২০২২ সাল থেকে। আই এল এস হাসপাতালের মধ্যে পরিষেবা দিয়ে চলেছে রোগীদের। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক ছোঁয়া রয়েছে তাদের পরিষেবায়।
উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে একমাত্র ত্রিপুরাতেই তাদের পরিষেবা রয়েছে। বর্তমানে রেডিওথেরাপি, পেড সিটি এবং ডে কেয়ার কেমু থেরাপি দেওয়া হয় তাদের হাসপাতালে। প্রতিদিন আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমেও বহু রোগী তাদের কাছ থেকে পরিষেবা গ্রহণ করছে। মঙ্গলবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাক্তার গৌতম মজুমদার। তিনি জানিয়েছেন ত্রিপুরায় ক্যান্সার রোগীর ব্যাপকতা রয়েছে। বছরে ৪০০০ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মাত্র ৩২০০ রুগী ত্রিপুরার হাসপাতাল গুলিতে পরিষেবা নিতে যাচ্ছেন। বাকি ৮ শতাধিক রোগী উন্নত পরিষেবার জন্য রাজ্যের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরিষেবা গ্রহণ করছেন। তাদের জন্য আই ও সি আই এবং আই এল এস হাসপাতালের মধ্যে রয়েছেন অভিজ্ঞ চিকিৎসক দেবলীনা গঙ্গোপাধ্যায়, ডাক্তার গৌরব কুমার দুবে, ডাক্তার দেবাঞ্জন চক্রবর্তী এবং ডাক্তার তপন শর্মা।
তারা এখন থেকে রাজ্যের স্থায়ীভাবে রোগীদের পরিষেবা দেবেন। বিগত দিনে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে রাজ্যের রোগীদের যেভাবে অন্য রাজ্যের ছুটে যেতে হয়েছে এখন থেকে আর অন্য রাজ্যে যেতে হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ যে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা দায়িত্ব পেয়েছেন তারা বিগত দিনে বিভিন্ন রাজ্যে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের দ্বারা বহু রোগী ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেয়েছে। এবং তাদের প্রশিক্ষণ রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে তাদের কাজ পর্যালোচনা করা হয়। চিকিৎসক দেবলীনা গঙ্গোপাধ্যায় সহ অন্যান্য ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, তামাক জাতীয় দ্রব্য এবং অ্যালকোহলের মাধ্যমে চল্লিশ শতাংশ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। এবং বিশেষ করে দেখা যাচ্ছে মুখে ক্যান্সার এবং খাদ্যনালির মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি ক্রমশ বেড়ে চলেছে। কুড়ি থেকে ত্রিশ শতাংশ ক্যান্সার হচ্ছে মুখের মধ্যে এবং গলায়। কম বয়সী ছেলে মেয়েদের মধ্যেও এই ক্যান্সারের প্রবণতা বেড়ে চলেছে। আরো জানিয়েছেন পাঁচ শতাংশ ক্যান্সার দেখা যাচ্ছে জেনেটিক। তাদের ফ্যামিলি হিষ্টি রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে দেড় শতাধিক থেকে ২ শতাধিক রোগী রয়েছে যারা ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছে। তাদের জন্য এই হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে।

