স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৮ সেপ্টেম্বর : মানুষের মধ্য থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মনুষ্যত্ববোধ। যৌন লালসার নোংরা নেশায় আজকের সমাজ এতটাই পচে গেছে যে মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায় মহিলাও আর নিরাপদ নন। এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ মিলল কৈলাসহর কোর্ট চত্তরে। এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে লক্ষ্য করে পরপর দু’দিন পাশবিকতার শিকার করল এক বিকৃত মানসিকতার যুবক। গোটা ঘটনা ধরা পড়েছে সিসি ক্যামেরায়। জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা কোর্ট চত্বর সংলগ্ন একটি হোটেলের বারান্দায় দিন-রাত কাটিয়ে আসছিলেন। পরিবারের খোঁজ না মেলায় তিনি কার্যত অসহায় জীবনযাপন করছিলেন।
প্রতিদিন স্থানীয় দোকান থেকে খাবার খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়তেন। কিন্তু এই অসহায় অবস্থাকেই সুযোগ হিসেবে নেয় এক লম্পট। সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে চারিদিকে লক্ষ্য করে যুবকটি মহিলার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তার সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন কর্মে লিপ্ত থাকে। শুধু তাই নয়, ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর একইভাবে পাশবিকতা চালায় সে। এই কুকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ দেখে হতবাক হয়ে যান হোটেল মালিক। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা। ব্যবসায়ী, আইনজীবী থেকে সাধারণ নাগরিক—সকলেই একবাক্যে বলছেন, এমন লম্পটদের কড়া শাস্তি না হলে সমাজ আরও কলঙ্কিত হবে। এখন প্রশ্ন উঠছে—যদি ওই নিরীহ মহিলা গর্ভবতী হয়ে পড়েন, তবে এর দায়ভার নেবে কে? সমাজের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগেই কি এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না? যুবকের ছবি সিসি ক্যামেরায় স্পষ্ট ধরা পড়েছে।
অনেকে তাকে চিনলেও তার নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। প্রশাসনের প্রতি স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি—অভিযুক্তকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। মানবিকতা ভুলে যৌন লালসার নোংরা খেলায় মেতে ওঠা এই বিকৃত মানসিকতার যুবকের কাজ শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি গোটা সমাজের জন্য লজ্জা, অপমান এবং এক ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা। অপরদিকে প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের মহিলা কমিশন এবং মহিলা সুরক্ষার কাজে লিপ্ত বলে দাবি করা বিভিন্ন সংস্থার ভূমিকা নিয়ে। গোটা রাজ্যে বিভিন্ন বাজার হাট সহ অন্যান্য এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলারা খোলা আকাশের নিচে রাত দিন কাটাচ্ছে। সেসব মহিলাদের কোনরকম সুরক্ষা নেই বলাই চলে। অথচ রাজ্যের মহিলা কমিশন এবং বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে মহিলা দের স্বার্থে কাজ করার যে দাবি করা হয় সেটা কতটা বাস্তবে সাথে মিল রয়েছে সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কৈলাশহরের ঘটনা।

