Friday, September 25, 2026
বাড়ি রাজ্য বনদস্যুদের হাতে আক্রান্ত ফরেস্টার, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন রাউন্ড গুলি চালালো বনকর্মীরা, প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ

বনদস্যুদের হাতে আক্রান্ত ফরেস্টার, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন রাউন্ড গুলি চালালো বনকর্মীরা, প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ

বনদস্যুদের হাতে আক্রান্ত ফরেস্টার, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন রাউন্ড গুলি চালালো বনকর্মীরা, প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৫ সেপ্টেম্বর ; আমবাসা নকুল পাড়ায় বনদস্যুরা গাছ কাটার সময় বাধা দেওয়ায় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বন কর্মীদের উপর আক্রমণ চালায়। ঘটনায় আহত এক বনকর্মী। আক্রমণকারীদের কাছ থেকে রক্ষা পেতে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায় বনকর্মীরা। পরবর্তী সময়ে প্রতিবাদে বনদস্যুরা আসাম- আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চাকরি দাবি জানায়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার আসাম আগরতলা জাতীয় সড়কের কাঠালবাড়ি এলাকার নকুল পাড়া এলাকায় কিছু উপজাতি গ্রামবাসী দেদার গাছ কাটছিল। খবর পেয়ে ডি এফ ও -র নেতৃত্বে বন কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তাদের বাধা দেয় গাছ কাটতে।

 তখন বন কর্মীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর ঝামেলা শুরু হয়। তখন উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি। শুরু হয় সংঘর্ষ। সংঘর্ষের ফলে চিরঞ্জিত দেববর্মা নামে এক ফরেস্টার আহত হয়। তখন বনকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। তারপর উত্তেজিত গ্রামবাসী প্রতিবাদে নকুল পাড়া এলাকায় আসাম আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ছুটে আসে আমবাসা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সহ আমবাসা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কথা বলেন অবরোধকারীদের সাথে। কিন্তু তারা মানতে নারাজ। অবরোধকারীরা জানায় তাদের কাজ নেই ও খাবার নেই। তাই তারা গাছ বিক্রি করে সংসার প্রতিপালন করছে।

 যদি গাছ কাটতে দেওয়া না হয় তাহলে তাদের চাকরি দিতে হবে। গ্রামবাসী নিজের মুখে স্বীকার করেছেন তারা সংসার পরিচালনা করতে প্রতিদিন জঙ্গল ধ্বংস করে চলেছে। রাজ্যের সম্পদ বড় বড় বৃক্ষ নিধন করে চলেছে। এভাবেই তারা বছরে পর বছর জঙ্গল ফাঁকা করে নিজেদের সংসার পরিচালনা করছেন। তখন পুলিশ বিষয়টি বনদপ্তরকে জানায়। কিন্তু ঘটনাস্থলে যায়নি বন দপ্তরের আধিকারিকরা। যার ফলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এদিকে আহত ফরেস্টার কর্মী কুলাই জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখন দেখার বিষয় এডিসির ভিসি নির্বাচনের আগে এই ঘটনা কতদূর গড়ায়। এদিকে প্রশ্ন হল, রাজ্যের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বিভিন্ন সময় বৃক্ষ রোপনের জন্য আবেদন করছেন। কিন্তু এভাবে পরিচর্যার অভাবে এবং প্রশাসনের গাফিলতির কারণে প্রতিদিন যদি বন জঙ্গল ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে সরকার পুরোপুরি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং জঙ্গল রক্ষা করতে ব্যর্থ। সরকারের এই ব্যর্থতা গোছাতে গেলে শুধুমাত্র ঘটা করে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান কাজে আসবে না। সঠিক নজরদারি এবং ভোট ব্যাংকের চিন্তা ছেড়ে দিয়ে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha