স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর
; গত পাঁচ মাস আগে গন্ডাছড়া থানা এলাকায় এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে এক নাবালিকা মেয়ের উপর আক্রমণের চেষ্টা করে। বিষয়টি গ্রামে মীমাংসা হলেও, এরপর থেকেই প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠে অভিযুক্তের পরিবার। গত ২৩ মে রাতের বেলা ১০-১২ জন মহিলা একজোট হয়ে নাবালিকার বাড়িতে হানা দেয়। ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে এসে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি, তার পোশাক খুলে কুরুচিকর ভিডিও তৈরি করে। ঘটনার পর ন্যায়বিচারের আশায় গন্ডাছড়া থানায় মামলা দায়ের করেন ১০ থেকে ১২ জন মহিলার বিরুদ্ধে।
নিরপেক্ষ তদন্ত না করে ঘটনাকে দুই পক্ষের সাধারণ বিবাদ বলে পুলিশ বিষয়টি আদালতে পাঠিয়ে দেয়, যার ফলে শুরু থেকেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয় নির্যাতিতা পরিবার। উল্টো দিকে, নিজেদের অপরাধ ঢাকতে অভিযুক্ত মহিলারা সংগঠিত হয়ে নাবালিকার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে মহকুমা শাসকের দপ্তরে জমা দেয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ শিশু কল্যাণ সমিতি লিখিত অভিযোগ এর ভিত্তিতে ওই কিশোরীকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করে সরকারি হোমে পাঠিয়ে দেয়। মেয়েকে হোম থেকে ছাড়িয়ে আনতে নাবালিকার পিতা সি.ডব্লিউ.সি এবং প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছেন, কিন্তু চার মাসেরও বেশি সময় পার হলেও মেয়েটি এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি। প্রশ্ন প্রকৃত অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও নির্যাতিতা নাবালিকাকেই কেন অন্যায়ভাবে হোমে বন্দি থাকতে হচ্ছে? পরিবারের অভিযোগ, সিডব্লিউসি ধলাই-এর চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন জানানো হলেও চেয়ারম্যান জানিয়ে দেন, অভিযোগকারী মহিলাদের নিয়ে আসতে হবে, নাহলে মেয়েটিকে ছাড়া হবে না।
এর
জন্য জেলা শাসক ও মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু কেউই কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। অসহায় পিতার দাবি প্রচারিত কুরুচিকর ভিডিও বাজেয়াপ্ত করা, গাফিলতিতে অভিযুক্ত পুলিশ ও সিডব্লিউসি কর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান