স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
১০ আগস্ট : সোমবার সকাল থেকে বামেদের আইন অমান্য আন্দোলন
ঘিরে রণক্ষেত্র রাজ্য। আন্দোলন ঘিরে এদিন এক জোটে রাস্তায় নামে তারা। এই আন্দোলনের
নাম দেওয়া হয় জেল ভরো কর্মসূচি। রাজধানীর মেলার মাঠ এলাকার থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা
জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের নেতৃত্বে একটি মিছিল শুরু
হয়। মিছিলটি রাজধানীর কামান চৌমুহনি সংলগ্ন এলাকায় আসতেই পুলিশ বেরিকেড দিয়ে মিছিল
আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন উত্তেজিত বাম কর্মী সমর্থকরা ব্যারিকেড ভেঙ্গে দেয়।
মিছিলে এগিয়ে
যায় সামনের দিকে। একটা সময়ের পর মিছিলটি ঘিরে ফেলে পুলিশ, টিএসআর সহ আধা সামরিক বাহিনী।
শেষ পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।
তিনি বলেন, রাজ্যে সাড়ে আট বছরে ডাবল ইঞ্জিন সরকার গ্রাম, পাহাড়ের মানুষের কাজ কেড়ে
নিয়েছে। জুমিয়াদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। গ্রাম পাহাড়ের মৃত্যুর মিছিল চলছে, তার
সঙ্গে হাহাকার এবং সন্তান বিক্রি হচ্ছে। এই সরকারের আমলে প্রত্যেকটি দপ্তরে লুটের রাজত্ব
তৈরি হয়েছে। আজকের আন্দোলন দিয়ে সরকার পরিবর্তন হবে না ঠিকই, কিন্তু জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট
দাবি মেনে নিতে নীতি পরিবর্তন করতে হবে জনবিরোধী, দুর্নীতিবাজ বিজেপি এবং তিপরা মথার
সরকারকে। কিন্তু সরকার যদি নীতি পরিবর্তন না করে তাহলে আগামী দিন বৃহত্তর আন্দোলন করে
দেশ এবং রাজ্য থেকে এ সরকারকে গদিচ্যুত করতে
তিনি আরো বলেন
আজকের আন্দোলন দেশ বাঁচানোর আন্দোলন, রাজ্য বাঁচানোর আন্দোলন এবং মানুষ বাঁচানোর আন্দোলন।
এদিকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন বিজেপি-র দুঃশাসন হটাবার সংগ্রাম
ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। দেশের কৃষকদের ন্যায্য পাওনা, শ্রমিকদের স্বার্থে
শ্রমকোড বাতিল করা, যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সহ ১১ দফা দাবিতে আজকে দেশব্যাপী
আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। এরই অঙ্গ হিসেবে রাজ্যে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয়েছে।
এ আন্দোলন থেকে শপথ নিয়ে যেতে হবে যাতে আগামী দিন জনগণের দুশমন ডাবল ইঞ্জিন সরকারকে
দাবি পূরণের জন্য বড় আন্দোলন সংঘটিত করা যায় গোটা দেশে। এমনটাই বলেন তিনি দলীয় কর্মী
সমর্থক ও রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে। এদিন বামেদের কর্মসূচিতে কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি
ছিল লক্ষণীয়।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান