স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২ আগস্ট : সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যাধি বাল্য বিবাহ। বাল্য বিবাহের দিক থেকে সিপাহীজলা জেলা রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। সরকার বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জায়গায় জায়গায় সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। তারপরও একাংশ অভিভাবকের কারনে বাল্য বিবাহ বন্ধ করা যাচ্ছে না।
তা ফের একবার প্রমাণিত। নাবালিকাকে বিয়ের জন্য চাপ মা-বাবার। ঘটনা বিশালগড় মহকুমায়। জানা যায় বিশালগড় মহকুমার ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে জোর পূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে খোদ মা-বাবা। কিন্তু নাবালিকা বিয়েতে সম্মত হয় নি। তাই মা-বাবা মেয়েকে মারধর করে গৃহবন্দী করে রাখে। বাধ্য হয়ে নাবালিকা তার ছোট বোনকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে ঠাকুরমার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু ঠাকুরমার বাড়িতে যাওয়ার পর নাবালিকা অসুস্থ হয়ে পরে। তারপর নাবালিকাকে ভর্তি করা হয় বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে। ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে ত্রিপুরা রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা শনিবার ছুটে যান বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে।
সেখানে গিয়ে তিনি কথা বলেন চিকিৎসকের সাথে। নাবালিকার শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন। তারপর তিনি নাবালিকার সাথে কথা বলে গোটা ঘটনার বিষয়ে অবগত হন। শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা জানান বর্তমানে নাবালিকা কিছুটা সুস্থ রয়েছে। নাবালিকার কাছ থেকে গোটা ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরেছেন। নাবালিকার বিয়ে ঠিক করার পর নাবালিকা তার বিদ্যালয়ে বিষয়টি জানায়। তারপর থেকে মা-বাবা নাবালিকার উপর নির্যাতন শুরু করে। তিনি আরও জানান ঘটনার তদন্ত করে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা যায় নাবালিকার সাথে ৩২ বছরের এক যুবকের বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল। নাবালিকা বিয়েতে সম্মত না হওয়ায় তাদের উপর নির্যাতন শুরু হয়। মূলত মা-বাবা দুই মেয়েকে নিজেদের বোঝা মনে করে। এখন দেখার শিশু সুরক্ষা কমিশন কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান