স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
৪ নভেম্বর : কর্মস্থলে যাওয়ার সময় পার্কিং জোনের কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হলেন ডেপুটি কালেক্টর এন্ড ম্যাজিস্ট্রেট। এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বুধবার ভোর পাঁচটা নাগাদ আগরতলা স্থিত বাধারঘাট রেল স্টেশনে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্টেশন চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।অভিযোগকারী নীলাঞ্জনা ভট্টাচার্যের দাবি, বুধবার ভোর পাঁচটা চব্বিশ মিনিটে আগরতলা - সাব্রুম ডেমো ট্রেনে করে শান্তিরবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে আগরতলা রেল স্টেশনে ওবের অটো দিয়ে এসেছিলেন।
স্টেশনের প্রবেশপথ থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে অটোটি থামার সঙ্গে সঙ্গে চালকের কাছে ২০ টাকা পার্কিং ফি দাবি করেন স্টেশনের পার্কিং জোনের কর্মীরা। কেন পার্কিং ফি নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চাইলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে নিয়ম ও নির্দেশিকা দেখতে চান। এবং বলেন গত তিন বছর ধরে এভাবে পার্কিং ফ্রি নেওয়া হচ্ছে। চালক পার্কিং ফি দিতে না চাইলে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তখন প্রতিবাদ করতেই এক মহিলা কর্মী তাঁর দিকে তেড়ে আসেন এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে ফোন ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন। ডি সি এম নীলাঞ্জনার আরও অভিযোগ, পার্কিং জোনের সেই মহিলা এসে ডিসিএমকে মারধর শুরু করে। এই ঘটনার জেরে তার নির্ধারিত ট্রেন হাতছাড়া হয় এবং সময়মতো কর্মস্থলেও পৌঁছাতে পারেন নি তিনি।
ইতিমধ্যে গোটা ঘটনার বিবরণ দিয়ে অভিযুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মিলানিয়া ভট্টাচার্য। অভিযোগের ভিত্তিতে পার্কিং জোনের মহিলাকে আটক করেছে জিআরপি পুলিশ। এখন প্রশ্ন উঠছে, স্টেশনে পার্কিং ফি আদায়ের নির্দিষ্ট নিয়ম কী? পার্কিং এলাকায় গাড়ি না দাঁড় করিয়েও কেন ফি দাবি করা হলো? আর সামান্য একটি প্রশ্নের জেরে যদি যাত্রীকে শারীরিক হেনস্থার শিকার হতে হয়, তাহলে রেল যাত্রীদের নিরাপত্তা কোথায়? ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে। উল্লেখ্য, আগরতলা শহরের মধ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে পার্কিং জোন।
যত্রতত্রভাবে পার্কিং ব্যবস্থা বন্ধ করতে ট্রাফিক প্রশাসন জরিমানা হাতিয়ার করেছে, কিন্তু রাস্তার পাশে সরকারি জমিতে পার্কিং করতে গেলে ২০ টাকা করে পকেট কাটছে নাম গোত্রহীন কিছু চুনোপুঁটি। স্থানীয় মন্ডলের আশীর্বাদে বিভিন্ন এলাকায় পার্কিং জোন গড়ে তুলছে তারা। বিনা পুঁজিতে একটা বড় লাভ জনক ব্যবসা হয়ে উঠেছে পার্কিং জোন। সব সময় সকলের কাছে টাকা থাকেনা যে ২০ টাকা গচ্ছা দিয়ে পার্কিং করার। বিভিন্ন সময় পার্কিং জোনের মাতব্বরদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ঝামেলা সংগঠিত হয়। তখন কোন প্রশাসনে এগিয়ে আসে না। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের হুমকি-ধমকি দিয়ে মানুষের কাছ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা পার্কিং জোনের নাম করে হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান