স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২ নভেম্বর : কলমচৌড়া থানাধীন আশাবাড়িতে
বিএসএফ ও স্থানীয় আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা
ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় তিন বিএসএফ জওয়ান সহ একাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন বলে জানা
গেছে। আহত বিএসএফ জওয়ানদের প্রথমে বক্সনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক
চিকিৎসার পর তাদের হাপানিয়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায়
আঘাত লাগে।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ১০ টার নাগাদ আশাবাড়ি গ্রাম
পঞ্চায়েত সংলগ্ন নতুন বাজার রাস্তার পাশে জঙ্গল সাফাইয়ের কাজ চলাকালীন শাহাজান মিয়ার
ছেলে হেফজুর রহমানকে বিএসএফ জওয়ানরা সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের
অভিযোগ, আটক অবস্থায় তাঁকে মারধর করা হয় এবং তার একটি পা ভেঙে যায়। এই ঘটনার খবর
এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্থানীয়রা। তারা নতুন বাজার সংলগ্ন আশাবাড়ি-রহিমপুর
সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে বসেন। অন্যদিকে, অবরোধ চলাকালীন রহিমপুরের দিক থেকে ৪৯ নম্বর
ব্যাটেলিয়ন TR-01-AL-1051 নম্বরের বিএসএফের গাড়ি বক্সনগরের দিকে যাওয়ার সময় উত্তেজিত
জনতার মুখে পড়ে। গাড়িতে কোম্পানি কমান্ডার রোহিত সহ গাড়ি চালক সুনীল কুমার ও জোয়ান
মঞ্জিত বিএসএফ জওয়ান ছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতা লাঠি ও বাঁশ নিয়ে
তাদের উপর চড়াও হয়। এতে তিন জওয়ান আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আশাবাড়ি
বিএসএফের বিওপি এবং কলমচৌড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত তিন বিএসএফ
জওয়ানকে প্রথমে বক্সনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য
হাপানিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। জানা গেছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের তরফেই
থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। খবর পেয়ে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও ঘটনাস্থলে
পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। এদিকে,বিএসএফ ও স্থানীয়
বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আশাবাড়ি এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে পেছনে পাচার চক্রের কোন বিষয়ে রয়েছে কিনা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান