Monday, October 26, 2026
বাড়ি রাজ্য একই বসতভূমি একাধিকবার বিক্রির অভিযোগ! বাড়ি হারানোর আতঙ্কে তিন অসহায় পরিবার, কাঠগড়ায় জমির মালিক ও তহশিলদার

একই বসতভূমি একাধিকবার বিক্রির অভিযোগ! বাড়ি হারানোর আতঙ্কে তিন অসহায় পরিবার, কাঠগড়ায় জমির মালিক ও তহশিলদার

একই বসতভূমি একাধিকবার বিক্রির অভিযোগ! বাড়ি হারানোর আতঙ্কে তিন অসহায় পরিবার, কাঠগড়ায় জমির মালিক ও তহশিলদার

 

 

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৬ অক্টোবর :  অধিক অর্থের লোভে একই বসতভূমি একাধিকবার বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে জমির মালিক রানী মালাকার,স্বামী গোপেন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থে দীর্ঘ প্রায় ৪৬ বছর আগে জমি কিনে বসতবাড়ি তৈরি করা তিনটি পরিবার বর্তমানে বাড়িঘর হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে কদমতলা থানা এবং ধর্মনগর আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, কদমতলা পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রবীন্দ্র দাস, প্রয়াত বলন উদ্দিনের স্ত্রী এবং প্রয়াত ইয়াসিন আলীর পুত্রবধূ ইয়ারুন নেছা ও চন্দন মালাকার প্রায় ৪৬ বছর আগে যথাক্রমে ৪ শতক, ১৬ শতক এবং ৬ শতক জমি ন্যায্য মূল্যের বিনিময়ে ক্রয় করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় জমির দলিল তৈরি করে দেওয়া হলেও জমির একটি অংশ ব্যাংকে বন্ধক থাকায় ক্রেতাদের নামে পর্চা বের করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট দ্বিতীয় মালিকের মৃত্যু হওয়ায় জমির পর্চা সংক্রান্ত সমস্যারও আর সমাধান হয়নি।

অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই জটিলতার সুযোগ নিয়ে জমির মূল মালিক রানী মালাকার পরবর্তীকালে একই জমি এলাকার ফারুক আহমেদ, পিতা মোকদ্দস আলী এবং প্রভাত মালাকারের কাছে পুনরায় বিক্রি করে দেন। অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গোপনে এই জমি হস্তান্তর করা হয়। তবে জমি পুনরায় বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হতেই বিপাকে পড়েন দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করে আসা তিন পরিবারের সদস্যরা।

এরপরই তাঁরা বিষয়টি কদমতলার তহশিলদারকে পুনরায় লিখিত অভিযোগ জানান এবং ধর্মনগর আদালতের দ্বারস্থ হন বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের আরও প্রশ্ন, জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও কীভাবে কদমতলার তহশিলদার কল্যাণ শুক্লাবৈদ্য পুনরায় দলিল ও পর্চা বের করে দিলেন? এই ঘটনায় তহশিলদারের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, অভিযোগকারীদের দাবি, ফারুক আহমেদ ও প্রভাত মালাকার জমির মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। এমনকি রবীন্দ্র দাস, চন্দন মালাকার এবং ইয়ারুন নেছাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।

এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছেন স্বামীহারা দুই সন্তানের জননী ইয়ারুন নেছা। নিজের অর্থ ব্যয় করে জমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করার পরও আজ তাঁকে বাড়িঘর হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি রবীন্দ্র দাস ও চন্দন মালাকারও। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা বসতভিটেতে বসবাসের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে এখন তাঁদের প্রশাসনিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

অভিযোগকারীরা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসন,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, জমির প্রকৃত মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে কোনও অসহায় পরিবারকে নিজেদের বসতভিটে থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কায় থাকতে না হয়।

এদিকে, ঘটনাটি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য স্থানীয় তহশিলদার কল্যাণ শুক্লাবৈদ্যকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দীর্ঘ প্রায় ৪৬ বছর ধরে বসবাস করে আসা তিন পরিবারের জমির অধিকার কি সুরক্ষিত থাকবে? নাকি আইনি জটিলতা ও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা বসতভিটে হারানোর আশঙ্কাই তাঁদের তাড়া করে বেড়াবে? সেই উত্তর এখন প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত, আদালতের বিচার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে কদমতলার এই তিন অসহায় পরিবার।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha