স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ অক্টোবর : রাষ্ট্রের মানচিত্রে সীমান্তের রেখা টানা থাকলেও
মানুষের আবেগ, বিশ্বাস আর সম্প্রীতির প্রবাহ যে কোনো কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে থাকে
না, তারই এক ছবি ফুটে উঠল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রামগড়ে। ফেনী নদীতে দূর্গা প্রতিমা
বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মানুষের মধ্যে দেখা গেল উৎসাহ, আবেগ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির
এক অনন্য আবহ। স্থানীয় শ্রীশ্রী দক্ষিণেশ্বরী কালিবাড়ির দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনকে
ঘিরে এদিন রামগড়ে হয় প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা। ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি, ভক্তদের
উচ্ছ্বাস আর বিদায়বেলার বিষণ্ণতার মিশেলে গোটা পরিবেশ যেন হয়ে উঠে আবেগঘন। আনুমানিক
বিকেল চারটা নাগাদ ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ফেনী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া
হয়।
এই বিসর্জনের
তাৎপর্য শুধু একটি ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্তের দুই
প্রান্তে বসবাসকারী মানুষের কাছে ফেনী নদী কেবল ভৌগোলিক বিভাজনের চিহ্ন নয়, বরং ইতিহাস,
জনজীবন, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক যোগাযোগেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। সেই নদীর জলেই যখন
দেবী দুর্গার বিদায়বেলা রচিত হয়, তখন ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি মানবিক বন্ধনের বার্তাও
যেন নতুন করে উচ্চারিত হয়। দুই দেশের মানুষের মধ্যে এই বিসর্জনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ
লক্ষ্য করা যায়। উৎসবের এমন মুহূর্তে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও পারস্পরিক আগ্রহ
সীমান্তবর্তী জনজীবনে সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। দুর্গাপুজো
বাঙালির কাছে শুধু দেবী আরাধনা নয়, এটি মিলন, মানবিকতা ও সামাজিক বন্ধনেরও উৎসব। আর
বিসর্জন সেই উৎসবের শেষ অধ্যায় হয়েও রেখে যায় নতুন করে ফিরে আসার প্রত্যাশা। রামগড়ের
ফেনী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের এই দৃশ্য তাই যেন মনে করিয়ে দেয়—রাজনৈতিক সীমানা রাষ্ট্রের পরিচয় নির্ধারণ
করতে পারে, কিন্তু মানুষের সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে এককভাবে সংজ্ঞায়িত
করতে পারে না। ফেনী নদীর স্রোত বয়ে চলে আপন গতিতে। তারই জলে মিশে যায় উৎসবের রং,
বিদায়ের অশ্রু আর আগামী বছরের অপেক্ষা। সেই স্রোতের মতোই ভারত-বাংলাদেশের মানুষের
মধ্যে শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও গভীর হোক—রামগড়ের এই বিসর্জন যেন বহন করে সেই
মানবিক প্রত্যাশারই বার্তা। সীমান্তের দুই পারে আলাদা দেশ, কিন্তু উৎসবের আবেগে মানুষের
হৃদয় আজও এক সুরে বাঁধা—ফেনী
নদীর বুকে বিসর্জনের এই মুহূর্ত যেন সেই চিরন্তন সত্যেরই প্রতীক।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান