স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ অক্টোবর : ত্রিপুরার এক যুবককে জাতিগত বিদ্বেষমূলক আচরণ, হেনস্থা ও অপমানের অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আমির শোকিনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির সদর বাজার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৯২, ১৯৬, ৩৫২ ও ৩৫৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন শোকিন। পরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চেয়ে দাবি করেন, ভিডিওটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং ভিডিওতে থাকা যুবক তাঁর পরিচিত। তাঁর বক্তব্য, ওই যুবক আগে আমেদাবাদে তাঁর এক বন্ধুর ক্যাফেতে কাজ করতেন। দু’জনের মধ্যে মজার ছলেই কথোপকথনটি হয়েছিল এবং কাউকে অপমান করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না বলে দাবি করেন শোকিন।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এর আগেও শোকিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরা পুলিশও তাঁর বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক আইনি ধারায় মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লিতে ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম (টিএসএফ-ডি) পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে দ্রুত এফআইআর নথিভুক্ত ও তদন্তের দাবি জানায়। এরপরই দিল্লি পুলিশ মামলা রুজু করে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি উত্থাপন করেন।
অভিযোগে টিএসএফ-ডি জানায়, ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ত্রিপুরার এক ব্যক্তিকে যৌন হেনস্থা, হয়রানি ও অপমানজনক আচরণের শিকার হতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মর্যাদা, শারীরিক স্বায়ত্তশাসন ও নিরাপত্তার পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে জাতিগত বৈষম্য ও হয়রানি প্রতিরোধের বিষয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলবে বলে জানায় সংগঠনটি।
এদিকে, আমির শোকিনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবিতে পশ্চিম আগরতলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ‘হেডলাইন্স ত্রিপুরা ন্যাশনাল’-এর প্রধান সম্পাদক প্রণব সরকার।
২১ অক্টোবর তারিখে দায়ের করা অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ২০ অক্টোবর দিল্লিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ত্রিপুরার এক জনজাতি সম্প্রদায়ের যুবককে প্রকাশ্যে হেনস্থা এবং অশালীন আচরণের শিকার হতে দেখা গিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রকাশ্যে যুবকের গোপনাঙ্গে স্পর্শ করেন এবং ত্রিপুরাকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। এতে ত্রিপুরার মানুষের মর্যাদা ও ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রণব সরকার ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের অধীনে মামলা দায়েরের আবেদন জানান। পাশাপাশি, তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে ত্রিপুরার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।
ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ জরুরি বলে উল্লেখ করে প্রণব সরকার নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান