নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা:গভীর রাতে পুলিশের নাকা চেকিংয়ে বড়সড় সাফল্য আমতলী থানার। সন্দেহজনক একটি সাদা রঙের Aura গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৫ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় দুই ১৯ বছর বয়সি যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম জিত দেব ও বিশাল দেব। দুজনেরই বাড়ি চান্দিনামুড়া এলাকায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল গভীর রাতে আমতলী থানার সামনে বাইপাস রোডের নাকা পয়েন্টে রাউন্ড দ্য ক্লক গাড়ি চেকিং চলছিল। সেই সময় কর্তব্যরত ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর সৌরভ সাহা ও সাব-ইন্সপেক্টর দিলীপ দাস। রাত আনুমানিক একটা নাগাদ TR 01 BW 0764 নম্বরের একটি সাদা রঙের Aura গাড়িকে সন্দেহজনকভাবে যেতে দেখে পুলিশ থামার সংকেত দেয়।
পুলিশের দাবি, চালক সেই সংকেত অমান্য করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকরা গাড়িটির পিছু ধাওয়া করে সেটিকে আটক করতে সক্ষম হন। গাড়িতে থাকা দুই যুবককে আটক করে তল্লাশি চালানোর পর উদ্ধার হয় দুটি বড় ব্যাগ। ওই ব্যাগগুলির ভিতর থেকেই প্রায় ২৫ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আমতলী থানার ওসি রানা চ্যাটার্জি জানান, নাকা পয়েন্টে নিয়মিত গাড়ি চেকিংয়ের সময়ই গাড়িটিকে সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালাতেই বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার হয়। ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে আনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এরপর আগরতলা রেলস্টেশন এলাকায় কোথাও গাঁজা লুকিয়ে রেখে ট্রেনের মাধ্যমে ত্রিপুরার বাইরে অন্য রাজ্যে পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে এই তথ্য তদন্তের অংশ এবং আদালতে প্রমাণের বিষয়টি এখনও বাকি।
এই ঘটনায় আমতলী থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে NDPS আইনে মামলা রুজু করেছে। মামলার নম্বর ১০৯/২০২৬। ধৃত দুই যুবককে আদালতে তোলা হবে এবং তদন্তের স্বার্থে তাদের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তবে ২৫ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে আরও কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। এই গাঁজা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল? কার নির্দেশে বা কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তা আনা হয়েছিল? পাচারের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না—এই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী পুলিশ।
এদিকে, স্থানীয়ভাবে চারিপাড়ার এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে দাবি উঠেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও এমন কোনও যোগসূত্রের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই দাবিকে কেবল অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
পুলিশের আশা, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং পুলিশ রিমান্ডে আরও তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে গাঁজা পাচারের সম্ভাব্য উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। এখন তদন্তের দিকেই নজর।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান