স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ সেপ্টেম্বর : রাস্তার
অবস্থা দেখে এলাকার ছেলে মেয়েদের কাছে কেউ বিয়ে দিতে চাইছে না! এতটা খারাপ অবস্থা সিপাহীজলা জেলা শাসক কার্যালয়ের ১০০ মিটার দূরে ননজলা গ্রামের একমাত্র রাস্তার। শনিবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এলাকার নারী পুরুষ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন রাস্তাটি এতটা খারাপ অবস্থা যে চলাচলের পুরোপুরি
অযোগ্য। গোটা রাস্তা গর্তে ভরা। কাঁচা মাটির এই রাস্তা দিয়ে
অল্প বৃষ্টিতে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের পাঠাতে পারেন না।
পূর্বতন সরকারের আমল থেকে রাস্তাটির এই অবস্থাতেই ছিল। সংস্কারের জন্য সরকারের উদ্দেশ্যে একাধিকবার দাবি তোলা হয়েছে। অথচ তৎকালীন সরকার একবারের জন্য রাস্তাটি সংস্কারের জন্য গুরুত্ব দেয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের একটাই বক্তব্য গোটা পাড়ার মানুষ সিপিআইএম। তাই রাস্তাটি সংস্কার করবে না তারা। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো বাড়িতে কেউ যদি গুরুতর অসুস্থ হয় তাহলে এলাকায় একটি এম্বুলেন্স পৌঁছাতে পারবে না। অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটলে গোটা পাড়া ভস্মীভূত হয়ে যাবে, কিন্তু কোন ফায়ার ইঞ্জিন ঘটনার স্থলে পৌঁছাতে পারবে না। পরিতাপের বিষয় হলো, ১০০ থেকে ১৫০ মিটারের মধ্যে জেলা শাসকের কার্যালয়। কুড়ি মিনিটের রাস্তা পায়ে হেঁটে গেলে নির্মাণ হচ্ছে জেলা হাসপাতাল। তবু রাস্তাটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই।
বহু
সম্বন্ধ এসে ফিরে যাচ্ছে এলাকার ছেলেমেয়েদের। কেউ বিয়ে দিতে চাইছে না এলাকার ছেলেদের
এবং মেয়েদের কাছে। বিয়ের গাড়ি পর্যন্ত এলাকায় ঢুকতে পারবে না। ২০২৩ সালে মথার নেতৃত্বে এলাকায় বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিও রাস্তাটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি গত কয়েক বছরে।
ভোট আসলে তাঁরা বাড়ি বাড়ি এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায় রাস্তাটি সংস্কার করে দেবে। কিন্তু নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে ভুলে যান এলাকার রাস্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি। জনপ্রতিনিধিদের পুরোপুরি নির্লজ্জ। এবার ভোট চাইতে আসলে তাদের পেটানো হবে। তারা যে দলেরই হোক
না কেন রাস্তার জন্য তাদের পেটানো হবে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীকে পর্যন্ত আসতে হবে বলে জানান গ্রামবাসী। তাই তারা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে দাবি করেন রাস্তাটি যেন দ্রুত সংস্কার করা হয়।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান