স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ সেপ্টেম্বর : ত্রিপুরার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ্ ও প্রাক্তন বিধায়ক তাপস দে শনিবার সকালে ৮০ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রাক্তন সহ-সভাপতি এবং একজন প্রাক্তন বিধায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালে তিনি কংগ্রেস দল ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে ত্রিপুরা ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মার নেতৃত্বাধীন তিপরা মথায় যোগ দিয়ে 'তিপরা সিটিজেনস ফেডারেশন'-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মোহনপুর কেন্দ্র থেকে তিপরা মোথার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। শুক্রবার রাতে তাঁর প্রয়ানে শোকস্তব্ধ রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। মুখ্যমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, প্রাক্তন বিধায়ক তাপস দে -র প্রয়ানে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তিনি সব সময় মানুষের জন্য কাজ করতেন। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর প্রয়ানে পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়কের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বিধানসভায়। বিধানসভায় শেষ শ্রদ্ধা জানান বিধানসভার অধ্যক্ষ রাম পদ জমাতিয়া, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন সহ অন্যান্য বিধায়করা। বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন, একজন কালারফুল সৎজন ব্যক্তির ছিলেন তাপস দে। ১৯৭২ সালে প্রথম বিধানসভায় প্রবেশ করেছিলেন তিনি। রাজ্যবাসী ভালো একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে হারিয়েছেন। খুব জ্ঞানী লোক ছিলেন তিনি। তাঁর চলে যাওয়া সমাজের জন্য বড় ক্ষতি। এমনটাই দুঃখ প্রকাশ করে অভিমত ব্যক্ত করলেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন।
তারপর মরদহ নিয়ে আসা হয় মানিক্য কোর্টে। সেখানে তিপরা মথার নেতৃত্ব শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
পরবর্তী
সময় প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়কের দেহ নিয়ে আসা হয় আগরতলা প্রেস ক্লাবে। আগরতলা প্রেস ক্লাবের সহযোগী সদস্য ছিলেন তাপস দে। আগরতলা প্রেস ক্লাবে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্যন্দন পত্রিকা ও টিভির সম্পাদক
সুবল কুমার দে, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অরুণোদয় সাহা, আগরতলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক অভিষেক দে এবং সভাপতি
প্রণব সরকার সহ অন্যান্যরা। স্যন্দন
সম্পাদক পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আগে বন্ধুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্যন্দন পত্রিকা ও স্যন্দন টিভির
সম্পাদক সুবল কুমার দে বলেন, একজন
প্রিয় বন্ধু হারালাম। ৭০ দশকে সবচেয়ে
রসিক রাজনীতিবিদ ছিলেন তাপস দে। ১৯৭২ সালের প্রথম শালগরা বিধানসভা থেকে নির্বাচনে লড়াই করেছিলেন তিনি। তিনি মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য নিজে থেকেই এগিয়ে আসতেন। তিনি বহু মানুষকে চাকরি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু কোন সহযোগিতা করে বিনিময়ে এক টাকাও নেন
নি। তাঁর প্রয়ানে রাজ্যবাসী সত্যিই একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হারিয়েছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান