স্যন্দন ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা। ২ আগস্ট
: ধর্মনগর-কৈলাসহর
সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ। যানচালক এবং পথচারীদের অভিযোগ, সরকারি ওয়ার্ক অর্ডারে রাস্তার গর্ত ভরাট, ব্রিক সোলিং, ড্রেন নির্মাণ, স্ট্রিপিং এবং প্রোটেকশন ওয়ার্ক সহ একাধিক কাজের
উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় শুধু কিছু ইটের খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে। অভিযোগ, ধর্মনগর - কৈলাসহরের রাস্তা কিছুদিন পূর্বে সংস্কার করা হয়। সংস্কারের কিছুদিন যেতে না যেতেই পুনরায়
আগের রূপ ধারণ করেছে। কারণ, নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজের অধিকাংশই করা হয়নি। ওয়ার্ক অর্ডারের তথ্য অনুযায়ী, এই রাস্তা সংস্কার
কাজের বরাত পেয়েছেন ঠিকাদার নারায়ণ নাথ চৌধুরী।
টেন্ডার মূল্য প্রায় ২২ লক্ষ ৮০ হাজার ৭৭০ টাকা ৫৮ পয়সা এবং কাজ সম্পন্নের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ১৮০ দিন। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার অবস্থা এখনও বেহাল। বর্ষার সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ওয়ার্ক অর্ডারে উল্লেখিত কাজের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বিস্তর ফারাক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কিনা এবং কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হচ্ছে কিনা। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, কিছুদিন আগেও ধর্মনগর শহরের বিভিন্ন রাস্তার নিম্নমানের মেরামতের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তৎপরতা চোখে পড়েনি।
একইভাবে ধর্মনগর-কৈলাসহর সড়কের চলমান কাজের সময়ও পূর্ত দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এস.ডি.ও বা প্রকৌশলীদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করতে দেখা যায়নি বলে দাবি করছেন অনেকেই। এ বিষয়টি ঘিরে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি নিয়মিতভাবে তদারকি করা হচ্ছে কি না। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নিয়মিত সরেজমিনে উপস্থিত থেকে কাজ পর্যবেক্ষণ করলে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ অনেকটাই কমে আসতে পারে। এলাকাবাসী পূর্ত দফতর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে সরেজমিন পরিদর্শন করে তদন্ত করা হয় এবং কাজের গুণগত মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, কাজের প্রকৃত অগ্রগতি ও মান যাচাই না করে কোনো বিল অনুমোদন করা উচিত নয়। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নারায়ণ নাথ চৌধুরী ও পূর্ত দফতরের আধিকারিকের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। প্রতিদিন বহু সংকটাপন্ন রোগী ও গর্ভবতী মহিলাকে এই রাস্তা দিয়ে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু, কাজের কথা মাথায় নেই দুর্নীতির সাথে জড়িতদের। যাইহোক এখন রাস্তাটির নির্মাণের কাজের সুষ্ঠু তদন্ত করার পাশাপাশি রাস্তাটি সংস্কারের দাবি উঠেছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান