স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৪ জুন : ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত দিয়ে মনীষা দাস মৃত্যু কাণ্ডের ঘটনার আসল রহস্য আড়াল করার চেষ্টা চলছে। সিটিং জার্জের মাধ্যমে এই ঘটনার তদন্ত করা হোক। সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। রবিবার সিপিআইএমের রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেন, ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মী মনীষার মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক নয়।
তাই মনীষার বাড়িতে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনীষা পড়াশোনার পর ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের মেয়েদের হোস্টেলে কাজে প্রায় দু’বছর আগে যোগ দিয়েছিল। প্রতিদিন ৫ টার পর ফিরে আসার কথা, কর্তৃপক্ষ নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করত। অতিরিক্ত কাজ না করলে ছাঁটাইয়ের হুমকি দিত। কাজের চাপ এতটা ছিল ভাইয়ের জন্মদিনে আসতে পারেনি মনীষা। ঘটনার পর মনীষা অসুস্থ বলে খবর দিয়ে বাড়ির লোকজনদের কলেজে নিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান মনীষার মৃতদেহ অনেক উঁচুতে ফ্যানের মধ্যে ঝুলছে। সবচেয়ে আশ্চর্যকর বিষয় হলো কর্তৃপক্ষ যে চেয়ারে দাঁড়িয়ে মনীষা আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করছে সেই চেয়ার মনীষার পায়ের কাছে ছিল না। শুধু তাই নয় ঘরের মধ্যে একাধিক পায়ের ছাপ ছিল, একই সঙ্গে বিছানা অগোছালো ছিল।
এমনকি ফ্যানের প্লেট বাঁকা হয়নি। তারপর ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগেই এসডিপিও দাবি করেছেন এটা আত্মহত্যা। এবং মুখ্যমন্ত্রী ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এবং এই দায়িত্ব পেয়েছেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসক। আশ্চর্যকর বিষয় হলো, এই ঘটনার কি তদন্ত করবেন জেলাশাসক? এই কাজ পুলিশের, জেলা শাসকের নয়। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো এখন পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে যে ভিডিও সামনে আসছে সেগুলো নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এগুলি করে জিনিয়াস ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তাই সিপিআইএমের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে একজন পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসার বা সিটিং জার্জের দ্বারা তদন্ত করা হোক। নাহলে মেয়েটির পরিবার বিচার পাবে না। একই সঙ্গে মেয়েটির পরিবারকে কি সহযোগিতা করা যায় সেটা যেন রাজ্য সরকার অবশ্যই দেখে। এমনটাই দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি আনন্দ নগর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ছয় ঘন্টা ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনার প্রসঙ্গে বলেন, বর্বরতা কোন জায়গায় চলে গেছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না! বিজেপি আমলে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাবি খুনি, ধর্ষণকারী এবং পাচারকারীদের হাতে থাকে। এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করলেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, আর বেশিদিন নেই। পশ্চিমবঙ্গের ঘটনার পুনারভিত্তি ঘটবে রাজ্যে। ত্রিপুরার মানুষও এই দলের নেতৃত্বদের মাথা ন্যাড়া করে দড়ি বেঁধে ঘোরাবে এবং পচা ডিম ছুড়বে। সুতরাং পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেখে সতর্ক হতে বললেন বিরোধী দলের নেতা। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম নেতা নবারুন দেব সহ অন্যান্যরা।

