স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৯ মে : আইজিএম হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু প্রসূতি মায়ের। ঘটনা শুক্রবার সকাল ছয়টার নাগাদ। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিভা দেবনাথের বাড়ি আমতলী বাইপাস বৈষ্ণব টিলা এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে নয় মাসের গর্ভবতী মহিলাকে সকাল এগারোটার নাগাদ আনা হয়েছিল। বয়স ৩৪ বছর। স্বামীর নাম পঙ্কজ দেবনাথ। প্রসব করার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাছে অনুরোধ করেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর কোনরকম চিকিৎসা না দিয়ে বলেন, ঈদের ছুটির জন্য হাসপাতালে সিনিয়র ডাক্তার নেই। দীর্ঘক্ষণ সিনিয়র ডক্টরের কোনো দেখা না পাওয়ার পর অবশেষে জানিয়ে দেয় নরমাল ডেলিভারি করা হবে। রাত হতেই প্রসব যন্ত্রণায় চিৎকার করে বিভা। ছটপট শুরু করে।
অথচ চিকিৎসকরা পরিবারের লোকজনদের বারবারই একটি কথাই বলছিলেন যে নরমাল ডেলিভারি করা হবে। কিন্তু অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বৃহস্পতিবার মাঝ রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বিভার। পরিবারের লোকজনরা বারবার এসে ইন্টার্ন চিকিৎসকের কাছে দাবি করেন নরমাল ডেলিভারি না করে যেন সিজার করে নেয়। কিন্তু ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মানতে নারাজ। রোগীর পরিবারকে জানিয়ে দেন, সিনিয়র ডাক্তার না আসলে তাদের মেয়ের সিজার করা হবে না। তারপর নার্সদের কাছে গিয়ে বারবার দাবি করেন তাদের মেয়েকে একটু এসে দেখার জন্য। পরিতাপের বিষয় নার্সরা একবারের জন্য ঘুম থেকে উঠে এসে বিভাকে দেখে নি। ঘুম থেকে ডেকে তুলতে পারেননি নার্সদের। এভাবেই দীর্ঘক্ষণ প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করে শুক্রবার সকাল ছয়টার নাগাদ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বিভা। দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা লড়াই করে পাষন্ডদের জন্য না নিজে বাঁচতে পারল, না তার নিষ্পাপ শিশুদিকে পৃথিবীর আলো দেখাতে পারল। তারপর চিকিৎসকরা এসে বলেন মৃত্যু হয়েছে বিভার। উত্তেজিত হয়ে ওঠে রোগীর পরিবারের লোকজন। তখন আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মীরা পুলিশকে। খবর পেয়ে পশ্চিম মহিলা থানার পুলিশ ছুটে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন। পুলিশ মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
উল্লেখ্য, আইজিএম হাসপাতালের বিরুদ্ধে এই ধরনের গাফিলতের অভিযোগ কোন নতুন বিষয় নয়। লাগাতার এই ধরনের অভিযোগ উঠছে হাসপাতালের বিরুদ্ধে। চরম গাফিলতি হাসপাতালে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের। ছুটির দিনে হাসপাতালে কোন সিনিয়র ডাক্তার থাকেন না। এমনকি রাতের বেলা পর্যন্ত কোন সিনিয়র ডাক্তার হাসপাতালের মধ্যে কর্তব্য পালন করতে দেখা যায় না বলে অভিযোগ রোগীদের। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য পর্যন্ত সিনিয়র ডাক্তারদের ফোন করে বাড়ি থেকে আনা হয় না। শহরে বুকে সমস্ত সুযোগ সুবিধা নিয়ে জনগণের পয়সায় প্রতি মাসে মোটা অংকের বেতন গুনছে। আর পাইভেট চেম্বার খুলে মোটা অর্থ কামাইয়ে মগ্ন তারা। যেকোনো জামানায় তারাই শেষ কথা শহরের প্রধান হাসপাতাল গুলিতে। তাদের কোন বদলি পর্যন্ত হয় না। রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং বিনা চিকিৎসায় রোগীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে এই হাসপাতালে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এবার এক প্রসূতি মাকে এবং পৃথিবীর আলো দেখার আগে নিষ্পাপ শিশুটিকে মৃত্যুর দুয়ারে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা। সুশাসন জামানায় তাদের কোন বিচার হয় কিনা সেটাই এখন মুখ্য বিষয়।

