বাড়িরাজ্যসিপিআই(এম) ১০ টাকার মুদ্রার মতো, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে: রতন লাল নাথ

সিপিআই(এম) ১০ টাকার মুদ্রার মতো, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে: রতন লাল নাথ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ মার্চ :আমাদের রাজ্যের রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর ভাষণ কেবল একটি সাধারণ ভাষণ নয়, এটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সাংবিধানিক প্রতিফলন এবং রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন, অগ্রগতি ও জনমুখী কর্মকাণ্ডের এক সুস্পষ্ট রূপরেখা।

ত্রিপুরা বিধানসভার চলতি অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব সমর্থন করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আজ একথা বলেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

তিনি বলেন, রাজ্যপালের ভাষণে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে এবং এজন্য তিনি রাজ্যপালকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চান।

মন্ত্রী বলেন রাজ্যপালের এই ভাষণ শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; এটি গণতান্ত্রিক শাসনের সাংবিধানিক প্রতিফলন যেখানে রাজ্যের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং মানুষের কল্যাণে সরকারের কাজের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এমন একটি ভাষণ শোনার সুযোগ পেলাম। তাছাড়া তিনি বাংলা ও ককবরক দুটি ভাষাতেই ভাষণ প্রদান করেছেন, এজন্যও আমি তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা’র নেতৃত্বে বর্তমান সরকার মানুষের কল্যাণে যে উন্নয়নমূলক কাজ করছে, তার স্পষ্ট উল্লেখও এই ভাষণে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজ্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে এবং তার প্রতিফলন রাজ্যপালের ভাষণে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। অতীতে কোনও রাজ্যপাল এভাবে সবদিক তুলে ধরে ভাষণ দেননি।

মন্ত্রী জানান, রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন অনুসূচিত জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়, সাংবাদিক, শিল্পী থেকে শুরু করে সমাজের শেষ প্রান্তে থাকা মানুষের কথাও তুলে ধরেছেন। এর মধ্য দিয়েই ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর প্রকৃত অর্থ প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশ আজ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতি বরাবরই সমতা ও জাতীয় ঐক্যের মূল্যবোধকে লালন করেছে। ‘এক দেশ, এক আত্মা, এক জীবন’ এই আদর্শই আমাদের জাতীয় চেতনাকে শক্তিশালী করে।

মন্ত্রী বলেন গত দশ থেকে বারো বছরে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়, গত এক দশকে ভারত তারই প্রমাণ দিয়েছে।

তিনি জানান, ভারত বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী খুব শিগগিরই তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে চলেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম, চীন দ্বিতীয়, জার্মানি তৃতীয় এবং ভারতের অবস্থান তার পরেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভারতমালা প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে অভূতপূর্ব গতিতে সড়ক নির্মাণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে। কৃষি ব্যবস্থা ও কৃষিভিত্তিক জীবিকার উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে। জাতীয় সৌর মিশনের আওতায় সৌরশক্তি ও সৌর প্রযুক্তির ব্যবহারও উন্নয়নের নানা ক্ষেত্রে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি জানান  বর্তমান রাজ্য সরকার সমাজের শেষ প্রান্তে থাকা মানুষের উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়াও তিনি সিপিআই(এম)-এর সমালোচনা করে বলেন, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি চীনও কমিউনিজমের পথ থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। অথচ রাজ্যের সিপিআই(এম) একদিকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সুবিধা গ্রহণ করে, অন্যদিকে বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রতি সমর্থন দেখায় এ কেমন কমিউনিজম?

তাঁর ভাষায়, সিপিআই(এম) আজ সেই ১০ টাকার মুদ্রার মতো, যেটিকে মানুষ আর গ্রহণ করতে চায় না।সবশেষে তিনি বিকশিত ত্রিপুরা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য