Tuesday, January 13, 2026
বাড়িরাজ্যডেলিভারি কর্মীকে মারধরের পর দেহ উদ্ধার, থানায় মামলা

ডেলিভারি কর্মীকে মারধরের পর দেহ উদ্ধার, থানায় মামলা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৫ ডিসেম্বর :   রবিবার ভোরে ধর্মনগর থানার অন্তর্গত কামেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়, বাড়ির অদূরে একটি জঙ্গলে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় প্রসেনজিৎ সরকার নামের বছর ২৪ এর এক তরতাজা যুবকের মৃতদেহ। প্রসেনজিৎ ধর্মনগর রাজবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ব্লু ডার্ট কুরিয়ার এজেন্সিতে ডেলিভারি বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পিতার নাম নেপাল সরকার। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় এক যুবতী গ্রাহক এবং তাঁর সঙ্গে থাকা চার বন্ধু প্রসেনজিতের কর্মস্থল ব্লু ডার্ট অফিসে হাজির হয়। ডেলিভারি সংক্রান্ত একটি ফোন কলকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা।

অভিযোগ, সেই সময় প্রসেনজিতকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। এমনকি ক্ষমা চাওয়ার পরও তাঁকে কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করা হয়, যা একজন পরিশ্রমী যুবকের আত্মসম্মানে চরম আঘাত হানে। এখানেই থেমে থাকেনি অভিযুক্তরা—এই অপমানজনক ঘটনার ভিডিও তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় বলে পরিবারের অভিযোগ। পরিবারের দাবি, প্রকাশ্যে এমন চরম অপমান ও সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রসেনজিৎ সম্পূর্ণভাবে মানসিক দিক থেকে ভেঙে পড়ে। শনিবার রাত থেকে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রবিবার ভোর আনুমানিক ৫টা নাগাদ, বাড়ির কাছেই একটি জঙ্গলে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ দেখতে পান পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী। মুহূর্তেই গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। এদিকে ব্লু ডার্ট কুরিয়ার এজেন্সির মালিক জানান, ক্ষমা চাওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়, অপমানসূচক কথা বলা হয় এবং গোটা ঘটনার ভিডিও বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে তার আত্মসম্মানে গভীর আঘাত লাগে। সেই মানসিক চাপই হয়তো এই মর্মান্তিক পরিণতির কারণ।” যদিও প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মঘাতী বলে অনুমান করা হচ্ছে, তবে মৃতের বাবা নেপাল সরকার এই ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ধর্মনগর থানায়।

অভিযুক্তরা হলেন—সুস্মিতা ভট্টাচার্য,সংগীতা ভট্টাচার্য,সৌরভ ভট্টাচার্য,মেঘদ্বীপ ভট্টাচার্য ও পিউ ধর।তাঁদের সকলের বাড়ি ধর্মনগর থানার অন্তর্গত দক্ষিণ হুরুয়া সংলগ্ন এলাকায়। ধর্মনগর থানার পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক বলে জানা গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তল্লাশি চলছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা ধর্মনগর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও শোকের আবহ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—একটি ডেলিভারি সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি কি এভাবে প্রকাশ্যে অপমান ও মানসিক হেনস্থার মাধ্যমে হওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেলিভারি সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির টোল-ফ্রি কমপ্লেইন নম্বরে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কোনওভাবেই প্রকাশ্যে অপমান, সহিংসতা বা সামাজিক মাধ্যমে হেনস্থা করে কারোর জীবন বিপন্ন করা গ্রহণযোগ্য নয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল— সামাজিক মাধ্যমে অপমান, ট্রোলিং ও মানসিক হেনস্থা কীভাবে একজন তরুণের জীবনে চরম পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে এবং প্রসেনজিতের পরিবার আদৌ ন্যায়বিচার পায় কি না।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য