Thursday, August 6, 2026
বাড়ি রাজ্য চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ হাতে পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিন বৃদ্ধা

চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ হাতে পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিন বৃদ্ধা

চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ হাতে পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিন বৃদ্ধা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৪ নভেম্বর :  চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ হাতে পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন কমিউনিটি হেলথ গাইডরা। আশা কর্মীদের মত তারাও প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করতেন গর্ভবতী মা এবং শিশুদের জন্য। ভ্যাকসিন দেওয়া এবং বিভিন্ন ঔষধ সম্পর্কে মা ও শিশুদের অবগত করা ছিল তাদের দায়িত্ব। অথচ জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তাদের মুখের ভাত কেড়ে নিয়েছে সরকার।

তাই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে এসে নিজেদের দুঃখ বেদনার কথা শোনাতে আসছিলেন চাকরিচ্যুত তিন বৃদ্ধা। চোখের জল ফেলে তারা বললেন, দরদী মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বাঁচান। দীর্ঘ বছর ধরে কমিউনিটি হেলথ গাইড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি রাজ্য সরকার নোটিফিকেশন জারি করে জানিয়েছে এক নভেম্বর থেকে ৬০ বছর উত্তীর্ণ কমিউনিটি হেলথ গাইডের ছাটাই করা হয়েছে। তারা ১৯৮৩ সালে চাকরি পেয়েছিলেন। ৫০ টাকা সাম্মানিক পেতেন। সেই সময় তাদের স্বামী ছিল। আজ তাদের অনেকেরই স্বামী নেই। বয়সের ভারে জীবনের শেষ মুহূর্তের জাগান দেয় প্রতিদিন। বর্তমানে তারা ৭ হাজার ২০০ টাকা করে পেতেন। ঘরে ছেলে দিনমজুর, সরকারি চাকরি নেই। এই টাকা দিয়ে সংসার চলতো। সরকারিভাবে ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ খাওয়ানোর মতো একমাত্র ভরসা ছিল এই সাম্মানিক। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত এই সাম্মানিক পেয়ে জীবন কোন ভাবে কাটিয়ে দেবে বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু সরকার কেন এমন হলো, ভগবান জানে। বনকুমারি থেকে আসা এক বৃদ্ধা এভাবেই দুঃখ প্রকাশ করলেন। অক্টোবর মাসে সরকারের এক নোটিশে তিন বৃদ্ধা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের প্রশ্ন এখন বাঁচতে গেলে যে ওষুধ প্রয়োজন সেই ঔষধের জন্য টাকা কোথায় পাবেন ? সংসার চালানো কিংবা অন্য দায়-দায়িত্ব তো দূরের কথা। তাদের বেঁচে থাকাই এখন প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। কাজ হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হতে চেয়েও কাজ হলো না। তাই তারা বলেন এখন তাদের সামনে মৃত্যু ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা না করতে পারলেও পূর্ব আগরতলা থানার ওসি সুব্রত দেবনাথ তাদের আশ্বস্ত করেছেন বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিতে নেবেন। তারপর পুলিশ একটি টমটম দিয়ে তাদের বাড়ির পাঠিয়ে দেন।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha