স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৪ নভেম্বর : শুক্রবার স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জহরলাল নেহেরুর ১৩৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজন করা হয় এক মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায়, দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। পাশাপাশি কংগ্রেসের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতৃত্বরাও নিজেদের পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।
পতাকা উত্তোলনের পর নেহেরুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন উপস্থিত কার্যকর্তারা। পরবর্তীতে গান্ধীঘাটে জহরলাল নেহেরুর শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলীয় নেতা ও কর্মীরা। শিশুদের বন্ধু ‘চাচা নেহেরু’র জন্মদিন হওয়ায় দিনটি শিশু দিবস হিসেবেও পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা তাঁর বক্তব্যে, স্বাধীনতা সংগ্রামে জওহরলাল নেহেরুর ঐতিহাসিক ভূমিকা, আধুনিক ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে তাঁর দূরদর্শিতা এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করেন। সেই সঙ্গে বর্তমান শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
আশিস সাহা অভিযোগ করেন— বিজেপি সংবিধান মানে না, বরং পদ্ধতিগতভাবে সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। মনীষীদের জীবন, সংগ্রাম ও ত্যাগকে বিকৃত করে নতুন প্রজন্মের সামনে বিভ্রান্তিকর ইতিহাস পরিবেশন করা হচ্ছে।স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় যাদের কোনো ভূমিকা ছিল না, আজ তারাই ইতিহাসের রক্ষক সেজে দেশের অতীতকে কালিমালিপ্ত করতে চাইছে বলে উল্লেখ করেন প্রদেশ সভাপতি।তিনি বলেন, বিজেপির উদ্দেশ্য স্পষ্ট— সংবিধানকে দুর্বল করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা কমিয়ে আনা এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রকৃত নায়কদের প্রতিস্থাপন করে নিজেদের মতাদর্শিক ‘নায়ক’ তৈরি করা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ—অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক উত্তেজনা, মত প্রকাশের ওপর নিয়ন্ত্রণ, এবং বিরোধী কণ্ঠর ওপর আক্রমণের প্রসঙ্গ।অনুষ্ঠানজুড়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্যে একাধিক প্রশ্ন স্পষ্ট হয়ে ওঠে— আজকের ভারত কি নেহেরুর স্বপ্নের ভারত ? যে সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কি সত্যিই সেই সংবিধানের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ আছে ? ইতিহাস বিকৃতি, ঘৃণার রাজনীতি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দখলের মাধ্যমে কি তারা গণতন্ত্রকে বিপন্ন করছে না ? নেহেরুর জন্মজয়ন্তীতে কংগ্রেসের এই বার্তা শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে এক স্পষ্ট সতর্ক সংকেত— ইতিহাসকে বিকৃত করা হলে, সংবিধানকে দুর্বল করা হলে, গণতন্ত্রকে সংকটে ঠেলে দিলে নীরব থাকা যাবে না। এর বিরুদ্ধে গণ আন্দোলনের শপথ নিতে হবে, বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠন করতে ঐক্যবদ্ধ লড়াই আন্দোলনে ঝাপাতে হবে, এর মধ্যদিয়েই নেহেরু - গান্ধীজির স্বপ্নের ভারত গঠন করা সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস সাহা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান