স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ অক্টোবর : বুধবার আচমকা নাগেরজলা বাস স্ট্যান্ড উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এদিন বাস চালকদের সাথে অটো চালকদের ঝামেলা শুরু হয়। কারণ নাগেরজলা বাস স্ট্যান্ডে প্রবেশ মুখ দীর্ঘদিন ধরেই জ্যাম সৃষ্টি করে রাখছে দক্ষিণ জেলা, সিপাহীজলা এবং গোমতী জেলার বাস চালকরা। তাদের আধিপত্য দেখে ট্রাফিক প্রশাসন পর্যন্ত মুখ খুলতে পারে না। ঘটনায় বিবরণে জানা যায়, নাগেরজলা বাস স্ট্যান্ড থেকে বের হওয়ার সময় উদয়পুরগামী বাসগুলি যাত্রীদের জন্য একাধিকবার দাঁড়ায়। এমনকি বাসগুলি নাগেরজলা থেকে প্রধান সড়কে বের হওয়ার সময় ট্রাফিক সিগনাল পর্যন্ত অমান্য করছে।
যার কারনে রাস্তার দুপাশে গাড়ি চলাচলের জন্য সবুজ সিগনাল থাকলেও গাড়ি বাইক নিউট্রল করে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তারপর প্রধান সড়কে বের হয়ে আবার সেখানেও ১৫ থেকে ২০ মিনিট দাড়িয়ে থাকে বাসগুলি। অথচ তাদের জন্য সেন্টিগ্রেড থেকে সাত মিনিট বাস দাঁড়ানোর সময় সীমা ধার্য রয়েছে। তারপর পুরো বাস ভর্তি যাত্রী না হওয়া পর্যন্ত গাড়িগুলি দক্ষিণ জেলা, গোমতী জেলা এবং সিপাহী জেলার উদ্দেশ্যে রওনা হয় না। পেছনে কোন ছোট যাত্রীবাহী গাড়ি থাকলে সেই গাড়িকে পাস দেওয়া হয় না। ছোট গাড়ি চালক যদি পাস চাইতে হর্ন দেয় তাহলে গাড়ি থেকে নেমে হুমকি-ধমকি দেয় গাড়িচালক এবং সহচালক। এভাবেই চলছে তাদের মনগড়া বাস পরিষেবা বলে জানান অটো চালকরা। অপরদিকে এক শ্রমিক নেতা জানান, বুধবার উদয়পুর গ্রামী কয়েকটি বাস রাস্তায় বের হওয়ার আগে একাধিকবার দাঁড়ায়। তখন নাগেরজলা বাস স্ট্যান্ডের ভেতর অটো জ্যাম লেগে যায়। বাস চালকদের জন্য কেউ বের হতে পারছিল না। তখন অটো চালকদের সঙ্গে বাস চালকদের ঝামেলা শুরু হয়।
পরে দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় বাস পরিষেবা বন্ধ ছিল নাগেরজলা থেকে। পরবর্তী সময় রাষ্ট্রবাদী দলের শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। তারা জানান বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। পুনরায় বাস পরিষেবা চালু হয়েছে। আরো জানান অটো স্ট্যান্ডের ভেতর বিভিন্ন বেসরকারি গাড়ি পার্কিং করা অবস্থায় রয়েছে। যার কারণে অটো চালকদের নির্দিষ্ট অতিক্রম করে রাস্তায় আসতে হয়েছে। তখন রাস্তা জ্যাম হয়ে যাওয়ার পর প্রতিবাদ জানায় অটো চালক সহ উদয়পুর গামী সহ বাকি মহকুমার গুলির বাস চালকরা। তারপর বাসগুলি পুরনো কায়দায় নাগেরজলা থেকে বের হয়ে মূল সড়ক পথে প্রবেশ করে। বাসগুলি নাগেরজালায় প্রতিদিন ঝামেলা সৃষ্টি করছে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অরুন্ধতী নগর থানার পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, প্রধান জাতীয় সড়কেও তাদের দাদাগিরির শেষ হয় না। রাষ্ট্র বাদি সংগঠনের দোহাই দিয়ে রাস্তা দখল করে রাখে। সৃষ্টি হয় যানজট। অথচ ট্রাফিক প্রশাসন সেখানে কোন কিছুই করতে পারে না। প্রতি বাস গাড়ি দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ মিনিট জাতীয় সড়ক দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে। এর বিরুদ্ধে কোন পথচারী মুখ খুললে বা ক্ষোভ প্রকাশ করলে গাড়ি চালকরা অসভ্য ব্যবহার করে পথচারীদের সঙ্গে। জাতীয় সড়ক দখল করে এভাবে কোন রাজ্যে দাদাগিরি চলে কিনা সেটা জানা নেই।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান