স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর : অনুপ্রবেশ নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি শাসক দল বিজেপি এবং ত্রিপুরার প্রধান শরিক দলকে কাঠগড়ায় করলেন। তাদের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। তিনি বলেন, ইদানিংকালে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্দোলন কিছু সংগঠনের দ্বারা লক্ষ্য করা গেছে। এবং একটা দলের পক্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মিছিল সমাবেশ হয়েছে। তাদের বক্তব্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের ফেরত পাঠানো হবে। অপরদিকে বিহারে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনী কথা বলে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছে।
এগুলি আগামী দিনে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার একটা চক্রান্ত চলছে। তিনি আরো বলেন, এই দেশে অতীতে এবং বর্তমানে অনুপবেশ হচ্ছে না সেটা বলা যায় না। অনুপবেশ হচ্ছে, সেটা বিএসএফের শিথিলতা এবং কিছু অফিসে দালালদের জন্য। তারা অনুপ্রবেশকারীদের ভারতবর্ষে পা রাখার আগেই ভোটার আইডি কার্ড, আধার কার্ড এবং পিআরটিসি বেআইনিভাবে বের করে দেয়। এগুলি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এগুলো বন্ধ না করে অমিত শাহ এবং তাঁর মন্ত্রক কিছু লোককে রাস্তায় নামাচ্ছেন। আবার তারাই নাগরিকত্ব সংশোধনীর নাম করে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি সম্প্রদায় বাদে বাকিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য বলেছেন।
গত কয়েকদিন আগে আবারো একটি বিবৃতি জারি করে ১০ বছর বাড়িয়ে বলছে ২০২৪ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা ভারতবর্ষে এসেছে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য। এটা সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং পরস্পর বিরোধী। কারণ সরকারের এ নির্দেশিকা জারি হওয়ার পরেও সেটা কতটা কার্যকর হবে সেটাই প্রশ্ন! কারণ বর্তমান সরকারের ভাষায় অনুপ্রবেশকারী মানে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষ। বরং দাবি তোলা দরকার সিএএ বাতিল করা। কারণ কোন আইন নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য হয় না।
কিন্তু সংবিধান বহির্ভূতভাবে সরকার এটাই করে বিভাজনের রাস্তা প্রশস্ত করছে। তিনি আরো বলেন ত্রিপুরা রাজ্যে অমিত শাহের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে আশা বেঁধে রয়েছে তাদেরও ষড়যন্ত্রের সম্পর্কে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। না হলে রাজ্যের মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি শুরু হবে। সিপিআইএম দাবি করে ১৯৭১ সালের পর যারাই রাজ্যে বা দেশে অনুপ্রবেশ করেছে তাদের জন্য আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান