Friday, October 2, 2026
বাড়ি খেলা ‘ভুলে যাও বিপক্ষে কে’, ব্রাজিল ম্যাচের আগে পরামর্শ ব্যারেটোর, ‘ভারতীয় ফুটবলে সুদিন আসবে’, স্বপ্ন মেহতাবের

‘ভুলে যাও বিপক্ষে কে’, ব্রাজিল ম্যাচের আগে পরামর্শ ব্যারেটোর, ‘ভারতীয় ফুটবলে সুদিন আসবে’, স্বপ্ন মেহতাবের

‘ভুলে যাও বিপক্ষে কে’, ব্রাজিল ম্যাচের আগে পরামর্শ ব্যারেটোর, ‘ভারতীয় ফুটবলে সুদিন আসবে’, স্বপ্ন মেহতাবের

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক,  অক্টোবর ২ :  বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এবার আরও একটি পার্বণ জুড়েছে। ঠিক দুর্গাপুজোর আগে। ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারতীয় ফুটবল দলের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এ যেন দুর্গাপুজোর আগে ৯০ মিনিটের উৎসব। গোটা শহর ফুটবল উৎসবে মাততে তৈরি।


নি:সন্দেহে অসম লড়াই। কিন্তু ফুটবল তো স্বপ্ন দেখতে শেখায়। যদি মিরাকল ঘটে যায়? আলবাত! ঘটতেই পারে! ব্লু টাইগার্সদের আত্মবিশ্বাসী থাকতে বলছেন জোসে র‍্যামিরেজ ব্যারেটো। ব্রাজিলীয় হয়েও তিনি ভারতীয়। আর মেহতাব হোসেন বললেন, এই ম্যাচটা ভারতীয় ফুটবলের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে। গোটা দুনিয়াকে দেখিয়ে দিতে পারে, আমরাও পারি। ঠিক যেমন কিছুদিন আগে রোনাল্ডিনহো-রিভাল্ডোদের লেজেন্ড দলের বিরুদ্ধে চোখে চোখে রেখে লড়েছেন মেহতাবরা। দুই তারকা ফুটবলার সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে শোনালেন ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে তাঁদের স্বপ্নের কথা।


ইতিমধ্যে শহরে পা রেখেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, মার্কুইনসরা। সাম্বা ঝড়ের প্রবাহ ভালোমতোই টের পাওয়া যাচ্ছে ফুটবলভক্তদের মধ্যে। আসলে বাংলার সঙ্গে ব্রাজিলের একটা মিল আছে। হ্যাঁ জানি, অনেক অনেক তফাৎ। কিন্তু নেইমারের দেশও পশ্চিমবঙ্গের মতো গাইতেই পারে, ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল।’ বিশ্বের দুই প্রান্তে ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা এক সুতোয় গাঁথা পড়ে যায়। ১৯৭৭ সালে স্বয়ং ফুটবল সম্রাট পেলের কলকাতা আগমনের ইতিহাস তার সাক্ষী। পরে ম্যানিলটন স্যান্টোস থেকে ব্যারেটো, এডমিলসন হয়ে হালের রবসন, মিগুয়েলরা। কলকাতার সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক আজকের নয়। কিন্তু এভাবে গোটা ব্রাজিল দল কখনও কলকাতা তথা ভারতে খেলতে আসেনি।


যুবভারতীতে সেই ম্যাচে বিশেষ ভূমিকায় উপস্থিত থাকবেন ব্যারেটো। হতে পারেন মোহনবাগান সমর্থকদের নয়নমণি। কিন্তু তাঁকে শ্রদ্ধা করেন দেশের সব ফুটবলভক্তই। তিনি ও আইএম বিজয়ন, এআইএফএফের তরফে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে বল নিয়ে মাঠে ঢুকবেন। এই সম্মানে ‘সবুজ তোতা’ গর্বিত। আবেগপ্রবণ হয়ে বলেই ফেললেন, “অবসরের পর থেকে আমি ভারতীয় ফুটবলকে কিছু না কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। অনেক সময় একাই লড়াই করে গিয়েছি। এই সম্মানে গোটা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছি। আশা করব, আমার ঐতিহ্য থেকে যাবে।” তারপরই চলে এলেন সোজা ম্যাচের কথায়। ব্যারেটো বললেন, “এটা ভারতের কাছে দারুণ সুযোগ। ভারতীয় ফুটবল এই মুহূর্তে একটা কঠিন অবস্থার মধ্যে আছে। সেখানে দেশের মাটিতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়া অনেক দরজা খুলে দিতে পারে। গোটা দুনিয়া এখন ভারতকে দেখবে। এ যেন স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। অনেক কিছু শেখার আছে। শুধু ব্রাজিল নয়, উরুগুয়েও আছে। দু’টো দলই বিশ্বকাপজয়ী। ওরা কী করছে, কী করছে না- সব কিছু শেখার আছে। দরকার পড়লে ম্যাচের পরে তাঁদের সঙ্গে কথা বলো। যা শেখার আছে, শিখে নাও।”


একই মত মেহতাবের। কিছুদিন আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তি দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে এসেছেন তাঁরা। সেই ম্যাচ ৪-৩ গোলে হারে ভারতীয় দল। কিন্তু চোখে চোখ রেখে লড়েছিলেন। সেই মুগ্ধতা নিয়ে মেহতাব বললেন, “বুঝলাম, কেন ওঁরা কিংবদন্তি । স্কিল, ভিশন- সব কিছুতেই আকাশছোঁয়া। রোনাল্ডিনহো-রিভাল্ডোদের দেখে শুধু মুগ্ধ হতে হয়। ভাবছিলাম, এঁরা পিক ফর্মে কীরকম ছিলেন। তবে আসল লড়াই ৩ অক্টোবর। ওই ম্যাচে যদি আমরা ভালো ফল করতে পারি, তাহলে ফুটবলে জোয়ার চলে আসবে। কিন্তু সেই জোয়ারকে বজায় রাখার জন্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে ডেভলপমেন্টে কাজ করে যেতে হবে। নাহলে আবার যে কে সেই!”


কিছুদিন আগেও কথা হচ্ছিল, কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই ধরনের প্রীতি ম্যাচগুলোর কী প্রয়োজন? তার থেকে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে পারত। কিংবা তৃণমূলস্তরে বিনিয়োগ করতে পারত। একদম ঠিক। সেটার প্রয়োজন আছে। কিন্তু মেহতাবের মতে, পানামা ম্যাচ অনেক অঙ্ক বদলে দিয়েছে। তিনি বললেন, “প্লেয়াররা আমাদের ভুল প্রমাণ করেছে। সেই জন্য তাঁদের হ্যাটস অফ। আমিও প্রশ্ন তুলেছি। সেটা স্বীকার করতে লজ্জা নেই। নাহলে তো দু’মুখো আচরণ হবে। কিন্তু পানামা ম্যাচে যে ফাইটটা দিয়েছে, সেটা আমাদের ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে। এবার এশিয়ার সেরা দেশগুলোর বিরুদ্ধে এরকমই জানপ্রাণ লড়িয়ে খেলতে হবে। আর ওই যে বললাম, ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হবে।”


সেটা হবে কি হবে না, তা পরের কথা। তবে একটা সুযোগ চলে এসেছে। কার্লো আন্সেলোত্তির দলের কী করতে হবে আনোয়ারদের? খালিদ জামিলের কোচিং দলে থাকলে কী পরামর্শ দিতেন? ব্যারেটো বললেন, “কার বিরুদ্ধে খেলছ ভুলে যাও। শুধু নিজেদের ম্যাচে ফোকাস কতো। ভাবো, নিজেদের শক্তি কোথায়? পানামার বিরুদ্ধে লড়াই করে ড্র করেছ। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখো। তবে হ্যাঁ, সবসময় সাবধান থাকতে হবে। বিশেষ করে কর্নারে। কারণ, ব্রাজিলের ফুটবলাররা খুব লম্বা।” অন্যদিকে মেহতাব বলেন, “ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলছ, এটাই সবচেয়ে বড় মোটিভেশন। এই ম্যাচটা দেশের সম্মানের জন্য খেলো। সর্বস্ব দিয়ে দাও। টাকা তো অন্য ম্যাচে পাবে। কিন্তু এই ম্যাচে দেখিয়ে দাও, কী করতে পারো। যদি লড়াই করতে পারো, তাহলে গোটা দেশ তোমাকে কুর্নিশ জানাবে। গোটা দুনিয়ায় তোমার নাম পৌঁছবে।”


ব্যারেটো আরেকটি দিক যুক্ত করলেন। ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতিতে একটা বিরাট পার্থক্য আছে। তিনি বললেন, “আমরা ফুটবলের দেশ। আমাদের সব ছেলে-মেয়ে ভাবে ফুটবলার হতে হবে। সবাই কোনও না কোনও ক্লাবকে সমর্থন করে। সেই অভিভাবকরা বাচ্চাদের ফুটবলার হওয়ার লড়াইয়ে পাশে থাকে। এখানেই ভারতের সঙ্গে পার্থক্য। এখানে শুধু ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়া হয়।  আশা করব, এই ম্যাচ দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে। সরকার আরও বেশি করে ভারতীয় ফুটবলকে সমর্থন করবে।” আশা ও অপেক্ষা নিয়ে বহু বহু বছর কেটে গিয়েছে। সত্যিই কি একটা ব্রাজিল ম্যাচ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারবে? আরও কিছুটা আশা ও অপেক্ষা নিয়ে দেশের ফুটবলভক্তরা।


Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha