Saturday, September 26, 2026
বাড়ি খেলা নিন্দুকদের জবাব দিয়ে এশিয়াড ম্যারাথনে রুপো, কে এই সাওয়ান বারওয়াল?

নিন্দুকদের জবাব দিয়ে এশিয়াড ম্যারাথনে রুপো, কে এই সাওয়ান বারওয়াল?

নিন্দুকদের জবাব দিয়ে এশিয়াড ম্যারাথনে রুপো, কে এই সাওয়ান বারওয়াল?

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, সেপ্টেম্বর ২৬ : ম্যারাথন শুরু করার আগে একটা কথা বারবার শুনতে হত সাওয়ান বারওয়ালকে। ভারতীয়দের পক্ষে ২ ঘণ্টার ম্যারাথন শেষ করা নাকি খুব কঠিন। কথাটা শুনে দমে যাননি হিমাচলের এই সেনা-অ্যাথলিট। বরং কটাক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরেছেন। শনিবার এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) পুরুষদের ম্যারাথনে নিন্দুকদের ‘থোঁতা মুখ ভোঁতা’ করে দিলেন ২৮ বছরের অ্যাথলিট। বুঝিয়ে দিলেন, ‘ভারতীয়রাও পারেন’। 


সাওয়ান রুপো জিতলেন ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে। পাশাপাশি নিজেরই জাতীয় রেকর্ড নতুন করে লিখলেন তিনি। এ বছর রটারড্যামে ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে ম্যারাথন শেষ করে শিবনাথ সিংয়ের ৪৮ বছরের পুরনো রেকর্ড (২ ঘণ্টা ১২ মিনিট) ভেঙেছিলেন। এশিয়াডের লড়াইয়ে সোনা পেলেন জাপানের ইচিকাতা ইয়ামাশিতার। তিনি সময় নেন ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড। ব্রোঞ্জ চিনের পেইয়ো ফেংয়ের (২:১২:১৩)।


পদক জিতে সাওয়ানের গলায় ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দেশের কথাই আগে। বলেন, “এটা ভারতের জন্য। পদকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেষ দিকে জাপানি অ্যাথলিট এগিয়ে গেলেন। আমিও চেষ্টা করেছিলাম।” পুরুষদের ম্যারাথনে এশিয়ান গেমসের পদকের জন্য ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৪৪ বছর। ১৯৮২-র দিল্লি এশিয়ান গেমসে হোসুর কুক্কাপ্পা সীতারাম ব্রোঞ্জ জেতার পরে আর কোনও ভারতীয় পুরুষ ম্যারাথনে পদক পাননি। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেন সাওয়ান। দৌড়ের ট্র্যাকে অনবদ্য ছিলেন তিনি। ১০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন ফেং। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি সেই গতি ধরে রাখতে পারেননি। এরপর ইয়ামাশিতা গতি বাড়ান।


হাল ছাড়েননি ভারতীয় অ্যাথলিট। শেষ ৭.১৪৫ কিলোমিটার দৌড়েছেন ২২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে। সোনা হাতছাড়া হলেও রুপো জিতে দেশকে গর্বিত করলেন। এক সিনিয়রদের দেওয়া সেই পুরনো পরামর্শেরই এক্ষেত্রে কাজে লেগেছে। তাঁরা বলেছিলেন, “ম্যারাথন আসলে শুরু হয় ৩৫ কিলোমিটারের পরে।” সাওয়ানের মন্তব্য, “সিনিয়রদের কাছে শুনেছিলাম, ম্যারাথন সহজ নয়। ৩৫ কিলোমিটারের পরে সেটা বুঝতে পারবে। ওই সময়টা শারীরিক লড়াইয়ের থেকে বেশি মানসিক লড়াই। আপনাকে রাস্তায় থাকতে হবে, কীভাবে শেষ করবেন সেটা ঠিক করতে হবে।”


ম্যারাথন যে একদিন তাঁর জানপ্রাণ হয়ে উঠবে, কখনও ভাবেননি বারওয়াল। হিমাচল প্রদেশের মান্ডির ছেলে সারওয়ানের দৌড়ের হাতেখড়ি স্কুলে। তারপর জেলা, রাজ্যস্তরে পদক আসতে থাকল। ২০১৯ সালে যোগ দিলেন সেনাবাহিনীতে। এত দিন মূলত ট্র্যাকেই দৌড়েছেন। ২০২২ এশিয়ান গেমসে চোট ভুগিয়েছিল। সঙ্গে নানা সমস্যা। তার পরেই কোচ সুরেন্দর সিংয়ের পরামর্শে ম্যারাথন নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু। শুরু হল ম্যারাথন অ্যাথলিটদের সঙ্গে অনুশীলন। কান্নুর থেকে বেঙ্গালুরু, চলত প্রশিক্ষণ। প্রথম ম্যারাথনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “তখন আমার অভিজ্ঞতা খুব কম ছিল। ৫ বা ১০ কিলোমিটারের ক্লান্তি এক রকম, ম্যারাথন ৪২ কিলোমিটার। আমার কাছে সবটাই নতুন ছিল।” সেই তিনিই আজ ইতিহাস গড়লেন এশিয়াডে।


Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha