স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৩ জানুয়ারি : বিশ্ব বাজারে কমেছে তেলের দাম। তাহলে এবার কি ভারতেও পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম কমানো হচ্ছে? সেই বিষয়টি নিয়ে চলছে জল্পনা। একাধিক মহলের তরফে দাবি করা হচ্ছিল যে লোকসভা ভোটের আগে শীঘ্রই জ্বালানি তেলের দাম কমানো হতে পারে। অবশেষে সেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলল ভারত সরকার। আর তাতে স্পষ্ট করে দেওয়া হল যে আপাতত সেরকম কোনও পরিকল্পনা নেই।
পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম কমানো নিয়ে তিন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা, তা নিয়ে বুধবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ‘এরকম কোনও বিষয় নিয়ে কোনও তেল বিপণনী সংস্থার আলোচনা করা হয়নি।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে আছি। বিশ্বের মানচিত্রে দুটি অঞ্চল আছে, যেখানে সংঘাত চলছে।’ উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইজরায়েল-হামাস সংঘাতের কথা বলেছেন পুরী। তার জেরে লোহিত সাগরে পরিবহণ ধাক্কা খেয়েছে। পুরী জানিয়েছেন, লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে বিশ্বের ১৮ শতাংশ তেল এবং চার থেকে আট শতাংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্য সম্পন্ন করা হয়।
লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে একটা সময় তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য কমেছে দাম। সেই পরিস্থিতিতে পুরী বলেছেন, ‘যাতে (তেল) পাওয়া যায়, অস্থির পরিস্থিতিতে সেটা নিশ্চিত করাই হল আমার প্রাথমিক দায়িত্ব।’ তিনি দাবি করেন যে তেলের দাম নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিই নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন, যাতে কোনওরকম অস্থিরতা না আসে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকে।
এমনিতে ভারতের তেলের বাজারের ৯০ শতাংশ আছে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার দখলে। যে তিনটি সংস্থা টানা ২১ মাস তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। গত অর্থবর্ষে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও ঘরোয়া বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হেরফের করা হয়নি। তার জেরে গত অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে বড় ক্ষতি হয়েছিল। পরবর্তীতে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায় শেষ তিনটি ত্রৈমাসিকে অবশ্য লাভ হয়েছিল।

