ইমফল, ১৯ অক্টোবর
(হি.স.) : মণিপুরের ইমফল পূর্ব এবং কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী নোংশুম, খংবাল থাংখুল
এলাকায় সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের হামলায় দুজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে খবর
পাওয়া গেছে। ঘটনাটি সোমবার সকালের। অন্যদিকে, রবিবার রাতে রাজ্যের থউবাল জেলায় একটি
সংগীতানুষ্ঠান চলাকালীন সংঘর্ষের জেরে ডাবল ব্যারেল বন্দুকের গুলিতে ২৪ বছর বয়সি এক
যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, ইমফল পশ্চিম জেলায় পৃথক একটি বোমা হামলায় আহত হয়েছেন
কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) তিন জওয়ান। সোমবার সরকারি সূত্রে এই
খবর জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে যখন আক্রান্ত ব্যক্তিরা জ্বালানি
কাঠ সংগ্রহের জন্য পাহাড়ি এলাকায় গিয়েছিলেন। সে সময় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।
আহতদের চিকিৎসার জন্য ইমফলের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
হামলার খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুষ্কৃতীদের পাকড়াও
করতে চিরুণি তালাশি শুরু করেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের
পরিচয় সম্পর্কে এ খবর লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। তাঁরা হামলার নিন্দা
জানিয়ে প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে রাজ্যের থউবাল জেলায় রবিবার রাতে একটি সংগীতানুষ্ঠান চলাকালীন সংঘটিত সংঘর্ষের
জেরে ডাবল ব্যারেল বন্দুকের গুলিতে ২৪ বছর বয়সি এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে সোমবার
সরকারি সূত্রে এ খবর জানানো হয়েছে। মৃত যুবককে জনৈক থোকচোম রাকেশ বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
থউবাল জেলার সাংগাইয়ুমফাম সংলগ্ন খাঙ্গাবোক পার্টা থ্রি-এর চেরাপুর লেইকাই এলাকায়
স্থানীয় একটি ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংগীতানুষ্ঠানে রাত প্রায় ১১টা নাগাদ
তিনি পেলেটের আঘাতে গুরুতর জখম হন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই সম্প্রদায়ের কয়েকজনের মধ্যে সংঘর্ষের
সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের ছোড়া ডাবল ব্যারেল বন্দুকের
গুলিতে রাকেশ আহত হন বলে জানা গেছে। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
জনৈক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানান, ঘটনাটির সঠিক কারণ এবং কোথা থেকে ও কীভাবে সংঘর্ষের
সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।
এ ঘটনার পর থউবালের জেলাশাসক ইয়ুমনাম রবিতা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা-র ১৬৩ নম্বর
ধারায় নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করেছেন। নির্দেশ অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর রাত ১১টা
থেকে পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত সাংগাইয়ুমফাম ও খাঙ্গাবোক রাজস্ব গ্রামের
বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
জেলার পুলিশ সুপারের একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে
শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি, জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়া এবং মানুষের জীবন ও সম্পত্তির বিপদের
আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এদিকে, খাঙ্গাবোকের বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং প্রকাশ্য স্থানে গুলি
চালানোর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে জনসমক্ষে হাজির করার দাবিতে সড়ক অবরোধ
করেন।
অন্যদিকে, ইমফল পশ্চিম জেলার সিংজামেই থানা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দক্ষিণে রবিবার রাত
১১টা ৪১ মিনিট নাগাদ সংঘটিত পৃথক এক বোমা বিস্ফোরণে সিআরপিএফ-এর তিন জওয়ান আহত হয়েছেন।
আহত জওয়ানরা সিআরপিএফ-এর ১৮৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের ‘ই’ কোম্পানির সদস্য। তাঁরা কাকওয়া
লামদাইবুং লামপাক এলাকায় মোতায়েন ছিলেন। আহতদের পরিচয় সি পুন্নামবালম (৫৮), রমেশ
কুমার (৫৭) এবং পবিত্র কুমার জেনা (৫৬) বলে জানানো হয়েছে।
আহত জওয়ানদের দ্রুত ইমফলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের
চিকিৎসা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি এখনও নিশ্চিত করা
যায়নি। এখনও পর্যন্ত কোনও নিষিদ্ধ সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ অক্টোবর ইমফল পূর্ব জেলার নিউ লাম্বুলানে র্যারপিড অ্যাকশন ফোর্সের
একটি অস্থায়ী শিবিরে মোতায়েন সিআরপিএফ-এর এক জওয়ান বোমা হামলায় আহত হয়েছিলেন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান