কলকাতা, ১৮ অক্টোবর (হি.স.) : উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে ঘটে
যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শহরের অন্যান্য বড় পুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা ও ভিড়
নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তৎপর হলো রাজ্য প্রশাসন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে
এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা কঠোর করতে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন দল গঠন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনার নেপথ্যের কারণ খুঁজতে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং সিআইডি-র
সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত এই বিশেষ দলে রাখা হয়েছে রাজ্যের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা
দফতরের সচিব রাজেশ সিং, অগ্নিনির্বাপণ দফতরের মহাপরিচালক অনুজ শর্মা এবং স্পেশাল টাস্ক
ফোর্সের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাভেদ শামীমকে। পুরো পরিদর্শন প্রক্রিয়াটির দেখভাল করবেন
রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক। পুজো মণ্ডপগুলি ঘুরে দেখার পর এই টিম সরাসরি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র
সচিব সংঘমিত্রা ঘোষের কাছে নিজেদের প্রতিবেদন জমা দেবে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন, পরিদর্শন দলের প্রতিটি সুপারিশ পুজো কমিটিগুলিকে
বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে হবে। যদি কোনো মণ্ডপের কাঠামোগত দুর্বলতা থাকে এবং তা পরিবর্তন
করতে গিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়, তবে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত করে কেবল পুরোহিতদের মাধ্যমে
পূজা ও সংকল্প সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে সাধারণ ভক্তদের জন্য বাইরে
বড় এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে পূজার অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, এই ঘটনার
স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র
ঘুগে-র কাছে চিঠি পাঠিয়ে একজন বিচারপতির নেতৃত্বে সিট গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে।
আহতদের দেখতে হাসপাতালে অমিত শাহ ও রাজ্যপাল
রবিবার সকালে কলকাতায় পৌঁছেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরাসরি হাসপাতালে
গিয়ে চোরবাগান দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি পুরো পরিস্থিতির
খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, এই
মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর পূর্বনির্ধারিত সমস্ত
কর্মসূচি বাতিল করে রবিবারে রাজ্যে আসেন। পাশাপাশি, রাজ্যপাল আর এন রবিও হাসপাতালে
গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।
আর্থিক সহায়তা ও সরকারি চাকরির ঘোষণা:
চোরবাগান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বড়
ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। দুর্ঘটনায় নিহত প্রতিটি পরিবারের
জন্য ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের অন্তত একজনের জন্য গ্রুপ-ডি পদে সরকারি
চাকরির ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে
এবং তাঁদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর
কার্যালয় থেকেও মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার
ঘোষণা করা হয়েছে।
চোরবাগানের পুজোয় দুর্ঘটনা: নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ টিম গঠন, নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও চাকরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান