Sunday, October 11, 2026
বাড়ি জাতীয় ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বেআইনি আটক নয়’, ককরোচ কাণ্ডে ‘সুপ্রিম’ পর্যবেক্ষণ, ইন্টারনেট চালুর নির্দেশ

‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বেআইনি আটক নয়’, ককরোচ কাণ্ডে ‘সুপ্রিম’ পর্যবেক্ষণ, ইন্টারনেট চালুর নির্দেশ

‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বেআইনি আটক নয়’, ককরোচ কাণ্ডে ‘সুপ্রিম’ পর্যবেক্ষণ, ইন্টারনেট চালুর নির্দেশ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ১১ অক্টোবর :  শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। রাজধানীতে স্বভাবিক রাখতে হবে মেট্রো ও রেল পরিষেবা। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় রবিবার এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট । পাশাপাশি, রাজধানীতে ইন্টারনেট পরিষেবা অবিলম্বে চালুরও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, প্রতিবাদের অধিকার সবার, কিন্তু আইন ভেঙে নয়।


মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং ছাত্র সংগঠন। বিক্ষোভ দমাতে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয় দিল্লিতে। দিকে দিকে বসানো হয় ব্যারিকেড। জমায়েত আটকাতে বহু ট্রেন বাতিল করে কেন্দ্র। দিল্লির ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা হয়। যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকার ইন্টারনেট পরিষেবাও ব্যাহত হয়। অভিযোগ,  এহেন পুলিশি নিরাপত্তার জেরে বিপর্যস্ত হয় জনজীবন। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই রবিবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ শুনানি হয়।


আদালত জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁদের বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার আওতায়  নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি এমন এলাকাগুলিতে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের আরও নির্দেশ, শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করা জরুরি না হলে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই মামলায় দিল্লি পুলিশ, দিল্লি মেট্রো-সহ সব পক্ষের কাছে জবাবও তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে, শীর্ষ আদালত এ-ও নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রয়োজন না পড়লে দিল্লিজুড়ে যে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে সেগুলি সরাতে হবে।


শুনানি চলাকালীন মামলাকারীর আইনজীবী কপিল সিবাল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর অভিযোগ, এহেন কড়া বিধিনিষেধের কারণে প্রতিবাদীরা বিক্ষোভস্থলে পৌঁছতে বাধার মুখে পড়েন। পাশাপাশি, ট্রেন-মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও তিনি আদালতে তুলে ধরেন। সিবালের বক্তব্য, আইন মেনে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সুযোগ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, কেন্দ্রের সলিসটার জেনারেল তুষার মেহতা অভিযোগগুলি খণ্ডন করেন। তিনি জানান, শনিবার রাত ১০টার মধ্যে সমস্ত মেট্রো স্টেশন পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবাও স্বাভাবিক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুলিশের অনুমতি না নিয়েই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।


শনিবার বিভোক্ষের কারণে জমায়েত রুখতে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। সেটিও অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি।


Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha