স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ১১ অক্টোবর : বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর নামে ভোটচুরি, এই অভিযোগে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে শনিবার উত্তাল হয় দিল্লি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেদিন গভীর রাতে একটি নির্দেশিকা জারি করে নতুন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করল কেন্দ্র। রাজস্থান ক্যাডারের ২০১০ সালের আইএএস অফিসার প্রকাশ রাজপুরোহিত ওই পদে এলেন। উল্লেখ্য, একই পদে থাকা সঞ্জয় কুমারকে মেয়াদ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই গত অগস্টে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পদে ছিলেন সঞ্জয় কুমার। তিনি কমিশনের ভোটার তালিকা এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে সামলাচ্ছিলেন। যদিও গত বছর ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার থেকে ডেপুটেশনে কমিশনের কাজে যুক্ত হন সীমা খন্না। যাঁর বিরুদ্ধে বৈধ ভোটার বাদ দেওয়ার অভিযোগ আনছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। একটা সময় সঞ্জয়কে বাইপাস করে সীমাই কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান হন। এরপর ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ডিজিটাল প্রক্রিয়া ব্যবস্থাপনার সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। বিরোধীদের দাবি, ‘ইয়েস ম্যান’ সীমার মাধ্যমে স্বেচ্ছাচার চালাতেই সঞ্জয় কুমারকে ‘সাইডলাইন’ করে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনকে ঘিরেই শুরু হয় এসআইআর-এ ভোটচুরি বিতর্ক। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি পাঠান জ্ঞানেশ কুমারের সহকারী দুই কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। প্রতিবেদনের দাবি, সীমার ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন সান্ধু। সামগ্রিকভাবে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কাজকর্ম নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছিল। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সঞ্জয় কুমারকে সরানোর সিদ্ধান্তে আপত্তি করেছিলেন জ্ঞানেশের দুই সহকারী। বলা বাহুল্য, সেই আপত্তি ধোপে টেকেনি।
নির্বাচন কমিশন তথা জ্ঞানেশের কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোমবারও পথে নামতে চলেছে কংগ্রেস, ককরোচ জনতা পার্টি। অবিলম্বে জ্ঞানেশকে না সরালে বড়সড় আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে বিরোধী দলগুলি। এই অবস্থায় নতুন করে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। যদিও প্রশাসন সূত্রে দাবি, রুটিন রদবদল। শনিবার রাতে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পদে প্রকাশ রাজপুরোহিত-সহ মোট ২৭ জনকে বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদে বসানোর নোটিস জারি করেছে কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান