স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ৫ অক্টোবর : এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) মামলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট । মামলার প্রেক্ষিতে জবাব তলব করা হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর কাছেও। যদিও জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার আবেদন খারিজ করেছে শীর্ষ আদালত। ৬ নম্বর ফর্মে বদল কে করেছে? কমিশনের সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর নেওয়া হয়েছিল কি না? সে বিষয়ে জবাব তলব করা হয়েছে জ্ঞানেশ কুমার ও বাকি ২ দুই নির্বাচন কমিশনারকে।
সম্প্রতি সর্বভারতীয় ইংরাজি সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’ একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে দাবি করা হয়, একতরফা ভাবে এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বাকি দুই কমিশনারের আপত্তিতে আমল দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, নতুন ভোটারের নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬-এ বদল করা হয়। যা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়েছিলেন তাঁরা। সংবাদপত্রের ওই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে সম্প্রতি মামলা দায়ের হয়েছিল শীর্ষ আদালতে। সোমবার এই মামলার শুনানি করেন বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার বেঞ্চ। আবেদনকারী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি, রাকেশ কুমার সিং এবং সুধাকর সিং-এর আবেদন ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনে যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হোক। সিদ্ধান্ত যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে না নেওয়া হয় তবে তা বাতিল করা হোক। পাশাপাশি সাসপেন্ড করা হোক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। একইসঙ্গে তিনি যে রক্ষাকবচ পান সেটাও বাতিলের দাবি করা হয়।
মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী বিকাশ সিংয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, “কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ১০০ শতাংশ ঠিকও হতে পারে, আবার আংশিক ঠিকও হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। আমরা এর ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দিতে পারি না। আমরা অবশ্যই তাদের (কমিশনের) জবাব চাইব। যদি আমরা দেখি যে কোনও ক্ষেত্রে আইন মানা হয়নি, তাহলে আমরা তা বাতিল করে দিতে পারি।” পাশাপাশি বলা হয়, “নির্বাচন কমিশন কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা সর্বসম্মতিতে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই নেবে। সেই নীতি পালন করা হয়েছিল কিনা, না কি একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? আমরা এই বিষয়ে জবাব তলব করছি।” এছাড়া কার নির্দেশে ফর্ম ৬-এ বদল আনা হয়েছিল তা কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
তবে জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার আর্জি স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত পর্যবেক্ষণ, “শুধুমাত্র সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। ফলে সাসপেন্ড করার কোনও যুক্তি নেই। আমরা এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও বাকি ২ কমিশনারের কাছে জবাব তলব করছি। নোটিসের পর যদি দেখা যায় সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিতে নেওয়া হয়নি তাহলে সিদ্ধান্তগুলি প্রত্যাহার করে নেব। সব সিদ্ধান্ত একতরফা ভাবে নেওয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।”
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান