স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ৫ অক্টোবর : ভোটমুখী পাঞ্জাবে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ। এই মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছিল পাঞ্জাবের ডিজিপিকে। এই মামলার তদন্তভার এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিল পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই পদক্ষেপে বিপাকে পড়ল আপ শাসিত পাঞ্জাবে ভগবন্ত মানের সরকার।
জানা যাচ্ছে, রাজ্যে আধিকারিকদের বদলি, পদন্নোতি, ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পাঞ্জাবের ডিজিপিকে ৩টি চিঠি দেয় ইডি। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়। বলা হয়, এই বদলি ও পদোন্নতিতে একটি বেসরকারি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইডির লেখা ওই চিঠিতে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) রাজবীর ঘুমানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। হাউজিং সোসাইটি-সংক্রান্ত অর্থ পাচার এবং সিএলইউ-এর অনুমতিতেও দুর্নীতি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়েছে জাল অনুমতিপত্র।
ইডির দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হলেও পাঞ্জাব পুলিশের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপরই মামলা গড়ায় হাই কোর্টে। ইডির চিঠিকে হাতিয়ার করে আইনজীবী নিখিল সরাফ পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। সোমবার এই মামলার সুনানিতে হাই কোর্ট গোটা মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়। আদালতের নির্দেশ কেন্দ্রীয় সংস্থাই এই দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করবে।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে পাঞ্জাবের রাজনীতি। ইডির তরফে তোলা যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মান। আগস্ট মাসেই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, যে অভিযোগ করা হচ্ছে তার কোনও সত্যতা নেই। বিজেপির সরকার ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধীদের নিশানা করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির দুর্নাম করার ষড়যন্ত্র চলছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান