স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর : লাদাখের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারকে ফের চূড়ান্ত সময়সীমা দিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্র কোনও পদক্ষেপ না করলে বড়সড় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের জেরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ২ অক্টোবর থেকে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাঁদের সেই আন্দোলনকে সমর্থন জানালেন সোনম।
লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবি দীর্ঘদিনের। এই ইস্যুতে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে চিন সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল। সম্প্রতি দিল্লিতে এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সোনম বলেন, “এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। সরকার কি এই ধারণা নিয়ে এগোচ্ছে যে গণতান্ত্রিক কাঠামো কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না এবং সেই ভিত্তির ওপরই কি তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে?” গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর লেহতে পুলিশি অভিযানে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এনএসএ বা জাতীয় নিরাপত্তা আইনে যাদের আটক করা হয়েছিল। তারা এখনও জেলবন্দি। এই ইস্যুতেও সরব হন সোনম। বলেন, “সরকার ২ অক্টোবরের মধ্যে কোনও সিদ্ধান্ত না নিলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও আন্দোলনের পথে নামব আমরা।”
সোনম আরও জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, লেহ অ্যাপেক্স বডি ও কার্গিল অ্যালায়েন্সের বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠকের পর কোনও লিখিত আশ্বাস এখনও পাওয়া যায়নি। ওয়াংচুকদের মূলত ৩টি মূল দাবি। তা হল,
লেহ হিংসায় ৮০ জন আন্দোলনকারীর উপর থেকে মামলা প্রত্যাহার।
পুলিশের গুলিতে যে চারজনের মৃত্যু হয় তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ।
লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ৬ষ্ঠ তপশিলে অন্তর্ভুক্তি।
এদিকে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সিজেপির আন্দোলনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন সোনম। তিনি বলেন, “দেশে সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন, তা হল একটি স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া। আমি এটিকে পূর্ণ সমর্থন করি।” যদিও সোনম এটাও বলেন, “ব্যক্তিগত ভাবে প্রতিটি আন্দোলনে যোগ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না হলেও আমি শুরু থেকেই এগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছি। যন্তর মন্তরে যখন আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তখনও আমি ওদের পূর্ণ সমর্থন দিয়েছি। এখন ওদের কণ্ঠস্বর আরও দৃপ্ত হয়েছে। ওদের কণ্ঠস্বর গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেবে বলে আমি মনে করি।”
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান