স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ সেপ্টেম্বর: মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় ৩০-এর বেশি আদিবাসী শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। অসুস্থতা, অপুষ্টি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, একের পর এক নিরীহ শিশুর মৃত্যু হলেও সরকারের পদক্ষেপ যথেষ্ট দ্রুত নয়। তিনি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবকে উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে রোগ, অপুষ্টি, বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব এবং দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভেজাল ওষুধ এবং বিষাক্ত বেআইনি মদের কারণে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মধ্যপ্রদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ছাত্রছাত্রী, শিশু, দরিদ্র, দলিত, আদিবাসী, অনগ্রসর শ্রেণি ও মহিলারা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
রাহুল গান্ধী জানান, তিনি ইন্দোর সফর করছেন এবং রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার ছাত্র, যুবক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত মতামত সংগ্রহ করছেন।
বালাঘাটের প্রত্যন্ত আদিবাসী এলাকাগুলিতে চলমান স্বাস্থ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে বিরসা ও বাইহার ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় বাইগা ও গোন্ড সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে ওই এলাকায় ৩০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম, ম্যালেরিয়া, একাধিক সংক্রমণ, তীব্র অপুষ্টি, রক্তাল্পতা, শ্বাসকষ্ট এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার মতো একাধিক কারণের কথা সামনে এসেছে।
স্বাস্থ্য দফতর ইতিমধ্যে বহু মানুষকে স্ক্রিনিং করেছে এবং শত শত শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। হাম-রুবেলা টিকাকরণ জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুতর অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হচ্ছে।
শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চেয়েছে।
তবে শিশু মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা নিয়ে সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন স্বাধীন প্রতিবেদনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বালাঘাটের এই ঘটনা স্বাস্থ্য পরিষেবা, পুষ্টি সহায়তা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
১০ সেপ্টেম্বর রাজ্যের আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী বিজয় শাহ বালাঘাটের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিটি বাইগা পরিবারকে বসবাসের জন্য বাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি উপযুক্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান