স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ সেপ্টেম্বর: স্বীকৃত চিকিৎসা-যোগ্যতা ছাড়াই চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার অভিযোগে গুজরাটের সুরাটে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার পানদেশরা এলাকায় আটটি ক্লিনিকে অভিযান চালায় সুরাট সিটি পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (SOG) এবং জেলা স্বাস্থ্য দফতরের যৌথ দল।
পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসা ডিগ্রি ছাড়াই অথবা কথিত ভুয়ো যোগ্যতার ভিত্তিতে ক্লিনিক চালানো ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য সুরাটের পুলিশ কমিশনার ওয়াবাং জামিরের নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (DCP) রাজদীপসিং নাকুম।
পুলিশের দাবি, পানদেশরা এলাকায় কয়েকটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের পরিচয়ে ব্যক্তিরা চিকিৎসা করছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। হেড কনস্টেবল জগশিভাই শান্তিভাই এবং কনস্টেবল দেবেন্দ্রদান গম্ভীরদান আটটি স্থানে ‘ডামি রোগী’ পাঠিয়ে প্রাথমিক যাচাই করেন। এরপর তথ্যের সত্যতা যাচাই করে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালানো হয়।
জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. অনিল প্যাটেল তিনটি দল গঠন করেন। অন্যদিকে SOG-ও তিনটি দল তৈরি করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ইন্সপেক্টর কে.এ. সাভালিয়া এবং সাব-ইন্সপেক্টর এম.ডি. সারভাইয়া ও এম.ডি. হাদিয়া।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পার্থ দেবনাথ (৪০)। তিনি রাঁচোড়নগর সোসাইটির কৈলাস চকড়ির কাছে ‘প্রিন্স ক্লিনিক’ চালাতেন। পুলিশ জানায়, তিনি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং প্রায় দুই বছর ধরে ক্লিনিকটি চালাচ্ছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, তাঁর বাবা BHMS চিকিৎসক হওয়ায় তিনি চিকিৎসার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
তাঁর ভাই সিদ্ধার্থ দেবনাথ (৩৮) ইশ্বরনগরে ‘এস কে ক্লিনিক’ চালাতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনিও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন এবং চার বছর ধরে ক্লিনিক চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
বামরোলি রোডের শিবম নগর সোসাইটির ‘অ্যাঞ্জেল ক্লিনিক’ থেকে বিনোদকুমার সাহানি (৩৬)-কে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি তিন বছর ধরে চিকিৎসা করছিলেন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন।
হরিওম নগর সোসাইটির ‘প্রগতি ক্লিনিক’ থেকে মনোরঞ্জন বিসওয়াল (৫৪)-কে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি BSc ও BAMS পড়াশোনা করেছেন এবং দুই বছর ধরে ক্লিনিক চালাচ্ছিলেন।
কর্মযোগী সোসাইটির গণেশ কমপ্লেক্সে ‘সাই বাবা ক্লিনিক’ চালানোর অভিযোগে সজল বিশ্বাস (২১)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ সজল আগে হাসপাতালে কম্পাউন্ডার হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গোয়ালক রোডে জয় পবন মেডিক্যাল অ্যান্ড জেনারেল স্টোরসের প্রথম তলায় একটি নামহীন ক্লিনিক চালানোর অভিযোগে বিজয় যাদব (৫৫)-কে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং হাসপাতালের কম্পাউন্ডার হিসেবে ১৫ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বামরোলি-গোয়ালক রোডের কর্মযোগী সোসাইটিতে ‘দাওয়াখানা’ নামে একটি ক্লিনিক চালানোর অভিযোগে সন্দীপ সোনাওয়ানে (৪৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ এবং মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলার একটি হাসপাতালে আট বছর কম্পাউন্ডার হিসেবে কাজ করেছিলেন। প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি ওই ক্লিনিক চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
অষ্টম ব্যক্তি শ্যামনারায়ণ গুপ্ত (৫৩)। তিনি বামরোলি-গোয়ালক রোডের শিবম নগর সোসাইটি-২-এর প্রথম তলায় ‘শ্যাম ক্লিনিক’ চালাতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি BSc পড়েছেন এবং বারাণসীর একটি ক্লিনিকে কাজ করেছিলেন। প্রায় ১০ বছর ধরে ওই ক্লিনিক চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযানের সময় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ইনজেকশন ও সিরাপ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার সামগ্রীর মোট ঘোষিত মূল্য ৯৮,৮২৫ টাকা। আটজনের বিরুদ্ধে পানদেশরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে পার্থ দেবনাথের বিরুদ্ধে পৃথক একটি ঘটনাও সামনে এসেছে। আধিকারিকদের দাবি, প্রায় এক মাস আগে তিনি ‘স্বস্তিক ক্লিনিক’ নামে একটি ডিসপেনসারি চালানোর সময় পানদেশরার ১৪ বছরের কিশোর অভিষেক সিংয়ের চিকিৎসা করেছিলেন। পরে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে এবং পানদেশরা থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান