এখনও সাত জেলায় জলবন্দি ৩,৩২,৬৩৯ মানুষ,
শিবসাগরে আরও সাতটি দেহ উদ্ধার,
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫
গুয়াহাটি,
২৯ জুলাই
(হি.স.)
: অসমে বন্যার জল ক্রমশ নামতে শুরু করলেও দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। রাজ্যের সাতটি জেলায় এখনও ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৬৩৯ জন মানুষ বন্যার জলে বন্দি। এদিকে শিবসাগর জেলায় আরও সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫। নিখোঁজ রয়েছেন আরও সাতজন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতিমধ্যেই একাধিক আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
রাজ্যের উজান অসমের চারটি জেলা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও এই জেলাগুলিতেই সর্বাধিক। মুখ্যমন্ত্রী ড.
হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন,
শিবসাগর জেলার নাজিরা এলাকায় এখনও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধান না মিললে সরকার শীঘ্রই তাঁদের মৃত হিসেবে ঘোষণা করে পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেবে।
বন্যার জল নামতে শুরু করায় নতুন সমস্যার মুখে পড়েছেন দুর্ভোগের শিকার মানুষজন। বহু বাড়িঘর ও বিদ্যালয়ে হাঁটুসমান পলি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রেই অবস্থান করছেন।
অসম রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ
(এএসডিএমএ)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী,
বর্তমানে শিবসাগর,
গোলাঘাট,
চড়াইদেও,
যোরহাট,
নগাঁও,
শোণিতপুর এবং কামরূপ
(মেট্রো)
-এই সাতটি জেলা বন্যাকবলিত। মোট ২১টি রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত ৬২২টি গ্রাম এখনও বন্যার জলে ভাসছে। জলমগ্ন রয়েছে ৩,৩২,৬৩৯ জন মানুষ এবং ৪৫,৩৪১.৯৮ হেক্টর কৃষিজমি।
বন্যাদুর্গতদের জন্য বর্তমানে ৮১টি ত্রাণশিবির এবং ৩৪টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র সহ মোট ১১৫টি ত্রাণকেন্দ্র চালু রয়েছে। ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৩২,৪৭৭ জন এবং ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে আরও ১৬,৩১৪ জন অশিবিরবাসী সহায়তা পাচ্ছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী,
২৮ জুলাই পর্যন্ত শিবসাগর জেলায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে ১৮৬টি কাঁচা বাড়ি এবং দুটি পাকা বাড়ি। এছাড়া আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৬০টি কাঁচা ও ৫৮০টি পাকা বাড়ি। একই জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩২০টি ঝুপড়ি এবং ৭৮৯টি গবাদি পশুর শেড।
অন্যদিকে,
ধনশিরি
(নুমলিগড়)
নদী এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে প্রশাসন।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে এসডিআরএফ,
এনডিআরএফ,
সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী,
ভারতীয় বায়ুসেনা,
পুলিশ,
অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা
(এফ অ্যান্ড ইএস),
জেলা প্রশাসন,
সিভিল ডিফেন্স এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরা একযোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় ১২৫টি মেডিক্যাল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ২১টি নৌকা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং নৌকার সাহায্যে দু-জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান