গুয়াহাটি, ১ জুন (হি.স.) : পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে নলবাড়িতে ছাত্রনেতা মাধুর্য বর্মণকে খুন এবং তাঁর তরুণী বোনের ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত কথিত ‘লাভ-জিহাদি’ রোজ খান ওরফে আসিফ আলির। এ ঘটনায় আসিফের আরেক সাঁকরেদ হিতেশ ওরফে আশিক আলিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ।
প্রাপ্ত খবরে প্রকাশ, ঘটনা রবিবার সন্ধ্যারাতের। নলবাড়ি জেলার অন্তর্গত গঙ্গাপুরে। নিজের পিসতুতো বোন ১৮ বছর বয়সি মৃদুমুদ্রা ডেকাকে সঙ্গে নিয়ে বাইকে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন বছর ২০-এর মাধুর্য বর্মণ। গঙ্গাপুরের নির্জন এলাকায় তাঁদের আগমনের অপেক্ষায় ওৎ পেতে বসেছিল সশস্ত্র রোজ খান এবং হিতেশ আলি। এক সময় মাধুর্য বর্মণের বাইকের গতিরোধ করে মৃদুমুদ্রা বর্মণকে অপরহণের আপ্রাণ চেষ্টা করে রোজ খানরা।
ভাই মাধুর্যের বাধা পেয়ে তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালায় রোজরা। তারা মৃদুমুদ্রার ওপরও হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি ঘায়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চামতার বালিপাথরের বাসিন্দা এবং পশ্চিম নলবাড়ি আঞ্চলিক ছাত্র সংস্থার (আসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক মাধুর্য বর্মণ। ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে গুরুতরভাবে আহত হয়েছে বোন মৃদুমুদ্রা। তাঁর গলায় দায়ের কয়েকটি কোপ পড়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মুকালমোয়া থানা থেকে পুলিশের দল অকুস্থলে ছুটে যায়। তাঁরা রক্তাক্ত মাধুর্য এবং মৃদুমুদ্রাকে উদ্ধার করে গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মেডিক্যালে মাধুর্য বর্মণকে মৃত বলে ঘোষণা করে গুরুতর আহত মৃদুমুদ্রা ডেকাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভরতি করে চিকিৎসা শুরু করেছেন ডাক্তাররা। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন মৃদুমুদ্রার প্রদত্ত বয়ানের বয়ানের ভিত্তিতে প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত পূর্ব কালাকুচি গ্রামের বাসিন্দা রোজ খান ওরফে আসিফ আলি এবং সাঁকরেদ হিতেশ আলিকে পাকড়াও করতে ব্যাপক অভিযান চালায় পুলিশ।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুকালমুয়ার নিছলামারি চর এলাকা থেকে পুলিশের অভিযানকারীরা আত্মগোপনকারী রোজ আলিকে গ্রেফতার করেন। ধৃত অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসার পথে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে রুখতে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ।
পুলিশের গুলিতে রোজ আলি গুরুতরভাবে আহত হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে গুরুতরভাবে আহত মৃদুমুদ্ৰা ডেকার মা জানান, রোজ আলি নামের ছেলেটি বহুদিন ধরে তাঁদের মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করছিল। এ নিয়ে পরিবারের ওপর আতিশয্য চালাচ্ছিল সে। গত জানুয়ারিতে তাঁদের বাড়ি এসে ছুরি দেখিয়ে প্রেম প্রত্যাখ্যান করলে পরিণতি ভয়ানক হবে বলে হুমকি দিয়েছিল রোজ আলি, বলেন মৃদুমুদ্ৰার মা। তিনি খুনিকে ফাঁসি দেওয়ার দাবি করেছিলেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নলবাড়ি জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নলবাড়ি সহ রাজ্যের অন্যান্য স্থানে সারা অসম ছাত্র সংস্থা (আসু)-র স্থানীয় নেতা মাধুর্য বর্মণকে খুন এবং তাঁর বোনের ওপর প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন ছাত্র সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
আসু সহ কয়েকটি সংগঠন দাবি করেছে, প্রেমের প্রস্তাবকে প্রত্যাখানকে কেন্দ্র করে এই হামলা ঘটেছে। একে বহুজন ‘লাভ জিহাদ’-এর ঘটনা বলে অভিযোগ করছেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনও উদ্দেশ্যের সরকারি নিশ্চিতকরণ দেয়নি। ঘটনার প্রকৃত ক্রম ও হামলার পেছনে উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে আসাম পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রশাসন নলবাড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেছে।

