Monday, December 5, 2022
বাড়িবিশ্ব সংবাদপ্যারালিম্পিকস থেকে মহাকাশযাত্রার দৌড়ে

প্যারালিম্পিকস থেকে মহাকাশযাত্রার দৌড়ে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা,২৫ নভেম্বর: মহাকাশে ‘প্যারাঅ্যাস্ট্রোনট’ পাঠানোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নতুন প্রজন্মের শিক্ষানবিশ নভোচারীদের দলে ডান পা হারানো এক চিকিৎসককে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি-ইএসএ।ইএসএ’র ২০২২ সালের শিক্ষানবিশ নভোচারী দলের সদস্য হতে আবেদন পড়েছিল সাড়ে ২২ হাজার। এর মধ্যে ১৭ জনকে নির্বাচন করেছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি; সে দলে আছেন প্যারালিম্পিক দৌড়বিদ, ৪১ বছর বয়সী ব্রিটিশ চিকিৎসক জন ম্যাকফল।ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, প্রথমে জার্মানির কলনে ইউরোপিয়ান অ্যাস্ট্রোনট সেন্টারে মহাকাশ অভিযান সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আর চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে এক বছরের প্রশিক্ষণ নেবেন নবিশ নভোচারীরা। এরপর মহাকাশ স্টেশনের নানা যন্ত্রাংশ এবং নভোযান পরিচালনার প্রশিক্ষণ নেবেন তারা।ইএসএ’র ‘প্যারাঅ্যাস্ট্রোনট ফিজিবিলিটি প্রোজেক্ট’-এর অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন ম্যাকফল। সংস্থাটি বলছে, ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার নভোচারীদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।ম্যাকফলকে আদৌ মহাকাশে পাঠানো হবে কি না, এখনও তার নিশ্চয়তা নেই। তবে ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউরোপিয়ান মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি।১৯ বছর বয়সে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ডান পা হারান ম্যাকফল। ভেঙে না পড়ে পরের বছরগুলোতে নতুন করে নিজেকে গড়ে নিয়েছেন।

২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিক গেইমসে অংশ নিয়ে তিনি জিতে নেন ব্রোঞ্জ পদক। ২০১৪ সালে কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিন থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক শেষ করে ব্রিটিশ ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসেসে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন ২০১৬ সাল পর্যন্ত।ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, নভোচারী হওয়ার ‘মানসিক, কারিগরি এবং পেশাগত যোগ্যতা’ আছে, কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হতে পারছেন না, এমন মানুষদের ক্ষেত্রে ‘প্যারাঅ্যাস্ট্রোনট’ শব্দটি ব্যবহার করছে ইএসএ।প্রশিক্ষণ চালাকালে ম্যাকফলের অভিজ্ঞতার কারিগরি বিচার-বিশ্লেষণ, স্পেস সিমুলেশন, অ্যানালগ মিশন এবং তার সঙ্গে আলাপচারিতার ভিত্তিতে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার একজন মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর জন্য কী কী প্রয়োজন হতে পারে তা নির্ধারণের চেষ্টা করবে ইএসএ।ম্যাকফল বলেন, “এক পা হারানো মানুষ হিসেবে আমি কখনোই ভাবিনি যে নভোচারী হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।”মহাকাশে শারীরিক প্রতিবন্ধ কাউকে পাঠালে তাকে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, সে প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে চান ম্যাকফল।তিনি বলেন, “বিজ্ঞান সবার জন্য। আর আশা করছি মহাকাশযাত্রাও সবার জন্য উন্মুক্ত হবে।”ইএসএ’র সদ্য নির্বাচিত ১৭ শিক্ষানবিশ নভোচারী দলে আরও আছেন ফ্রান্সের নাগরিক সোফি আদেনট এবং ব্রিটিশ নাগরিক রোজমেরি কোগান। ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, এর মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য নভোচারীদের তালিকায় নারীদের উপস্থিতি আরও বাড়ল।এ বছরের শুরুতেই ইএসএ ঘোষণা দিয়েছে, প্রথম ইউরোপীয় নারী হিসেবে ইন্টারনাশন্যাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস) কমান্ডাদের দায়িত্ব নেবেন ইতালির নভোচারী সামান্থা ক্রিসপোরেত্তি। আরও দেড় দশক আগে প্রথম নারী হিসেবে আইএসএস কমান্ডারের দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন নাসার নভোচারী পেগি হুইটসন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য