স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ৫ অক্টোবর : সাইবেরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল ইরকুতস্কে এক রুশ তরুণীর মৃত্যু ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে আতঙ্ক। ২৮ বছরের ওই ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান মারা যাওয়ার পরই অন্তত পাঁচটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে শ দুয়েক মানুষকে। এছাড়া ইরকুতস্কে সব ধরনের জনসমাগম বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
‘হু’র মতে, প্লেগের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর প্লেগ নিউমোনিক প্লেগ। লক্ষণ দেখা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হতে পারে মৃত্যু। এটি মারাত্মক ছোঁয়াচেও। যদিও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবুও রোগটির সর্বাত্মক ভয়াল চেহারার কারণেই আতঙ্ক বাড়ছে। কিন্তু কীভাবে ছড়াল এই অসুখ? রুশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর সময় ভুলবশত প্লেগ ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্টটিউব ভেঙে যায়। এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন শিপিলোভা নাম্নী ওই তরুণী। কর্তৃপক্ষের তরফে শিপিলোভার মৃত্যুকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক সংক্রমণ’ বলে অভিহিত করা হয়। সূত্রের খবর, ‘নিউমোনিক প্লেগ’-এ আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আর এরপর থেকেই সতর্ক প্রশাসন।
দ্রুত বহু মানুষকে আইসোলেশনে পাঠানোর পাশাপাশি আরও নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রশাসন কিন্তু প্লেগের কথা সরাসরি স্বীকার করেনি। তবে সকলকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এমতাবস্থায় সরকার কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না। তাই বিস্তীর্ণ এলাকাকে সংক্রমণের ছোঁয়াচ থেকে বাঁচাতে তৎপর প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর মতে, ‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’ নামক ব্যাকটেরিয়া প্লেগের জন্য দায়ী। এটি এক ধরনের জুনোটিক (প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ানো) ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং তাদের গায়ে থাকা মাছির মধ্যে পাওয়া যায়। ‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’-এ সংক্রমিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাধারণত এক থেকে সাত দিনের সুপ্তাবস্থার পর রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। প্লেগের বিভিন্ন ধরনের মধ্যে ‘বুবোনিক প্লেগ’ হল সবচেয়ে পরিচিত রূপ।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান