স্যন্দন ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
১৫ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তানের সোয়াত জেলায় ২০১৮ সাল থেকে অন্তত ২০১ জন ‘অনার কিলিং’-এর শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮০ জন নারী এবং ২১ জন পুরুষ বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘দ্য অ্যাওয়েকেনিং’ নামে একটি এনজিওর তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। সংস্থাটি সোয়াত জেলায় ‘অনার কিলিং’, পারিবারিক বিরোধ, যৌন হিংসা এবং আত্মহত্যার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে।
তবে
সরকারি পুলিশের পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। সোয়াত জেলা পুলিশ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ১১৭টি ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮৫ জন নারী এবং ৩২ জন পুরুষ। এই ঘটনায় ১৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৮৮টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
পাকিস্তানি দৈনিক ‘দ্য ফ্রাইডে টাইমস’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে শাহজাদ নাভিদ লিখেছেন, ২০১ ও ১১৭-এর মধ্যে পার্থক্যকে শুধুমাত্র পরিসংখ্যানগত ত্রুটি হিসেবে দেখা যায় না। ভুক্তভোগীদের পরিবার ও সামাজিক চাপ, দুর্বল প্রমাণ এবং সামাজিক কলঙ্কের কারণে অনেক মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই ভেঙে পড়ে। এমনকি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানো মৃত্যুর ঘটনাও সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নারী
ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে হিংসা বন্ধে কাজ করা EVAWG-এর অ্যাডভোকেট ও ফোকাল পার্সন সামরিন হাকিম বলেন, ভুক্তভোগীর আত্মীয়রা পুলিশকে সম্পূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ না দিলে অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পাকিস্তানি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা প্রয়োগ করা হয়। ‘অনার কিলিং’-এর অধিকাংশ ঘটনায় ভুক্তভোগীর নিজের পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেছেন।
তিনি
আরও বলেন, আইনি পদক্ষেপ শুরু হলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেলেন অথবা আদালতে প্রমাণ দিতে এগিয়ে আসেন না।
হাকিমের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘অনার কিলিং’-এর প্রত্যক্ষদর্শীরাও অনেক সময় আদালতে ভুক্তভোগীর পরিবর্তে অভিযুক্তের পক্ষে সাক্ষ্য দেন। তাঁর মতে, পশতুন সমাজে ‘সম্মান’-এর নামে হত্যার পর সামাজিক লজ্জার কারণে মামলা দ্রুত শেষ করে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
গত
মে মাসে পাকিস্তানের করাচির মালির এলাকায় নিজেদের পছন্দে বিয়ে করা এক তরুণ দম্পতিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন ২০ বছরের নাদিয়া এবং ২৫ বছরের নাজিবুল্লাহ।
পাকিস্তানভিত্তিক জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ মে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা ওই দম্পতির গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাটি ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, দম্পতি নিজেদের পছন্দে বিয়ে করার পর ১৯ মে নাদিয়ার বাবা আসলাম থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরে এই মামলায় নাজিবুল্লাহর বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২৫
মে ওই দম্পতি মালির একটি আদালতে হাজির হয়ে তাঁদের বিবাহের শংসাপত্র জমা দেন। নথি জমা দেওয়ার পর মামলাটি নিষ্পত্তি হয় এবং নাজিবুল্লাহর বাবা মুক্তি পান।
পুলিশ জানায়, আদালতের কার্যক্রম শেষ করে দম্পতি সৌদাবাদে NADRA দফতরের উদ্দেশে রওনা হলে তাঁদের গাড়িতে হামলা হয়। গাড়িতে চালকসহ আরও দু’জন ছিলেন এবং তাঁরা হামলার সময় পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পুলিশের দাবি, আদালত থেকে বের হওয়ার পর থেকেই সশস্ত্র হামলাকারীরা ওই দম্পতিকে অনুসরণ করছিল এবং পরে তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান