স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
৯ অক্টোবর ; ডম্বুর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।
তীর্থমুখের গোমতী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় বাঁধের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একদিনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী।মন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালে ভারতে বাঁধের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশে ৭,০০০-এরও বেশি বাঁধ রয়েছে।
তিনি
বলেন এর আগে কেউ এ ধরনের আইন প্রণয়নের কথা ভাবেননি। যদিও উদ্বেগের কোনও কারণ নেই, তবুও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই আইন তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় বাঁধ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে এখানে একদিনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
ডম্বুর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বাঁধটি ৫৬ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। এখানে রাইমা ও সাইমা নদীর জল মিলিত হয়েছে। এই দুই নদীর সঙ্গমস্থল থেকেই গোমতী নদীর উৎপত্তি। একসময় এই কেন্দ্রে তিনটি ইউনিট ছিল, যার প্রতিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১৫ মেগাওয়াট। কিন্তু ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমতে থাকে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এখানে ২ থেকে ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছিল।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের বন্যায় ডম্বুর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এনআইটি), আইআইটি গুয়াহাটি, ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (বিএইচইএল) এবং এনএইচপিসির সহযোগিতায় সমীক্ষা চালানো হয়। পাশাপাশি, ডম্বুর বাঁধের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখতে কেরল থেকে একটি জলের নিচে চলাচলকারী রোবটও আনা হয়েছিল।
তিনি
বলেন সরকার ইতিমধ্যেই ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে । এই প্রকল্পে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে কাজ শুরু হবে।
এদিন বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবা নেই, সেখানে বিএসএনএলের নেটওয়ার্ক পরিষেবা চালু করা এবং মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই কাজ শুরু হবে।
মন্ত্রী বলেন গোমতী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ত্রিপুরার প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প এবং ঐতিহাসিক দিক থেকেও এই এলাকার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ডম্বুরে ৪৮টি হ্রদ রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এই এলাকা মাছ চাষের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখানকার হাজার হাজার মানুষ মাছ চাষের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তিনি
আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাঁধের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বর্ষার আগে ও পরে বাঁধের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত আধিকারিকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বাঁধের ভাটিতে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক, এমডিসিরা, বিদ্যুৎ নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ বসু, সিআরপিএফের ১২৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অখিলেশ কুমার সিং, এনডিআরএফের ইন্সপেক্টর সুশীল কুমার, টিপিজিএলের আধিকারিক এবং জাতীয় বাঁধ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান