Wednesday, August 12, 2026
বাড়ি রাজ্য স্মার্ট মিটারের বিরোধিতা করে না সিপিআইএম, কিন্তু বিদ্যুৎ বেসরকারিকরণ এবং গ্রাহকদের দায়বদ্ধতা না নেওয়ার প্রতিবাদ জানায়

স্মার্ট মিটারের বিরোধিতা করে না সিপিআইএম, কিন্তু বিদ্যুৎ বেসরকারিকরণ এবং গ্রাহকদের দায়বদ্ধতা না নেওয়ার প্রতিবাদ জানায়

স্মার্ট মিটারের বিরোধিতা করে না সিপিআইএম, কিন্তু বিদ্যুৎ বেসরকারিকরণ এবং গ্রাহকদের দায়বদ্ধতা না নেওয়ার প্রতিবাদ জানায়

 

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ আগস্ট : বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথের সাংবাদিক সম্মেলনের পর পাল্টা সাফাই দিলেন প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী মানিক দে। বুধবার সিপিআইএম রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে বিদ্যুৎ পরিষেবা, বিদ্যুতের বিল এবং স্মার্ট মিটার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একাধিক অভিযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে যে সমস্যা ক্ষোভ সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তার কোনও সদুত্তর সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রচার করা হচ্ছে।

স্মার্ট মিটার নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নতুন কোনও বিষয় নয়। বামফ্রন্ট সরকারের সময়েও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সিস্টেমের উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছিল। ট্রান্সমিশন ডিস্ট্রিবিউশন লস কমানো, টেকনিক্যাল লস হ্রাস করা এবং গ্রাহকদের নিয়মিত উন্নতমানের বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়াই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। সেই সময় বিশ্ব ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর জন্য অন্যতম শর্ত হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় স্মার্ট মিটার বসানোর বিষয়টি সামনে আসে।

প্রথমদিকে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। কারণ, আগের মিটার পরিবর্তন করে নতুন মিটার বসানোর পর আবার কেন স্মার্ট মিটার বসাতে হবে, সে বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা এবং প্রকল্পের শর্ত বিবেচনা করে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার স্মার্ট মিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে নির্বাচিত সংস্থা মিটার সরবরাহ করে এবং বিদ্যুৎ নিগমের ব্যবস্থাপনায় সেগুলি বসানো হয়। সেই সময় স্মার্ট মিটার নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বড় ধরনের অভিযোগ বা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা নেই। ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে সাত লক্ষের কাছাকাছি। তার মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ৪০-৫০ হাজার মিটার বসানো হয়েছিল। সেই সময় যদি স্মার্ট মিটার নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা থাকত, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যাপক অভিযোগ আসত। কিন্তু তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হয়েছে। কারণ, ২০১৮ সালের পর গোটা দেশে সমস্ত গ্রাহককে স্মার্ট মিটারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিষেবায় বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণও বেড়েছে। এখন অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাই স্মার্ট মিটার সরবরাহ করছে, তারাই মিটার বসাচ্ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাদের হাতে থাকছে। একজন গ্রাহকের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর পর যদি মিটারে সমস্যা দেখা দেয়, অতিরিক্ত বিল আসে, মিটার সংক্রান্ত কোনও ত্রুটি হয় কিংবা মিটার পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়তাহলে তার দায়িত্ব কার? বিদ্যুৎ নিগমের, সরকারের, নাকি সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থার? আগে বিদ্যুৎ নিগমের মাধ্যমে মিটার বসানো হলে তার দায়িত্বও নিগমের ছিল। মিটারে কোনও সমস্যা হলে গ্রাহক নিগমের কাছে অভিযোগ জানাতে পারতেন এবং নিগমই তার সমাধান করত। এখন যদি পুরো ব্যবস্থাই বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ গ্রাহকের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত থাকবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। বর্তমানে মানুষের অভিযোগের অন্যতম বিষয় হলআগের মিটারের তুলনায় স্মার্ট মিটারে অনেক বেশি বিল আসছে। একই ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও পুরনো মিটারের তুলনায় নতুন মিটারে বিলের পরিমাণে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে বলে বহু গ্রাহক অভিযোগ করছেন। এই অভিযোগগুলির কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা সরকার এখনও দিতে পারেনি বলে জানান তিনি। পাশাপাশি নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে ষ্পষ্ট বলেন, স্মার্ট প্রযুক্তির বিরোধিতা করছে না বামফ্রন্ট। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সেই প্রযুক্তির নামে যদি সাধারণ গ্রাহকের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হয়, যদি বিল নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকে এবং মিটার সংক্রান্ত সমস্যার দায়িত্ব কোনও নির্দিষ্ট সংস্থা নিতে না চায়, তাহলে তার বিরোধিতা অবশ্যই হবে। স্মার্ট মিটার বসানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সঠিক মিটার রিডিং, বিল নির্ধারণের পদ্ধতি এবং গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তির সুস্পষ্ট ব্যবস্থা থাকা জরুরি। প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী মানিকদের আরো বলেন, সরকারের কাছে দাবি, স্মার্ট মিটার নিয়ে মানুষের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক এবং গ্রাহকদের অভিযোগের দ্রুত সমাধান করা হোক। একই সঙ্গে মিটার সরবরাহ, স্থাপন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কারসেটিও সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha